ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় তাদের বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরায় আনা হয়েছে।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে চিহ্নিত এসব নাগরিককে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। এরপর বিএসএফের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে দ্রুত বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে আরও অন্তত ১৫০ জনের একটি দলকে একইভাবে সীমান্তে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মধ্যেই প্রথম দফায় এই ১৫০ জনকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো। বাগডোগরায় বিশেষ বিমান, দায়িত্বে বিএসএফ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।

কাশ্মীর উপত্যকায় জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির কাজ শুরুর পরপরই অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে গতি এসেছে। উপত্যকাজুড়ে কাশ্মীর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ জরিপে প্রায় ৬০০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। শ্রীনগরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চিহ্নিত এই ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে এবং প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শ্রীনগরের একটি পুলিশ নিয়ন্ত্রিত শিবিরে রাখা হয়েছিল। কাশ্মীর উপত্যকায় জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন অবৈধ বসবাসকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সমীক্ষাতেই ৬০০ জন বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ”চিহ্নিত বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের শ্রীনগরে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান। জনমিতি পরিবর্তন ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকরের নেতৃত্বে গঠিত ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ গত ২৬ মে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমিটিকে এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তারা গত ১৫ বছরের বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মীয় জনমিতি, শিল্পাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করছে। তবে এই অভিযান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট ২০২২ সালের এপ্রিলে রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকায় প্রায় ১৩ হাজার ৪০০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদকপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগেও ২০২১ সালের মার্চে যাচাইকরণ শেষে শতাধিক নথিহীন ব্যক্তিকে হীরানগরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ও পূর্ববর্তী পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করলেও, ভারতের বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্রবিহীন সকল বিদেশি নাগরিককেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ভারতের করদাতাদের অর্থে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে লালন করা হবে না। তাদের নীতি হলো—চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বিতাড়ন (ডিট্যক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট)।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

আপডেট সময় : ১১:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে চিহ্নিত এসব নাগরিককে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। এরপর বিএসএফের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে দ্রুত বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে আরও অন্তত ১৫০ জনের একটি দলকে একইভাবে সীমান্তে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মধ্যেই প্রথম দফায় এই ১৫০ জনকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো। বাগডোগরায় বিশেষ বিমান, দায়িত্বে বিএসএফ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।

কাশ্মীর উপত্যকায় জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির কাজ শুরুর পরপরই অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে গতি এসেছে। উপত্যকাজুড়ে কাশ্মীর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ জরিপে প্রায় ৬০০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। শ্রীনগরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চিহ্নিত এই ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে এবং প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শ্রীনগরের একটি পুলিশ নিয়ন্ত্রিত শিবিরে রাখা হয়েছিল। কাশ্মীর উপত্যকায় জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন অবৈধ বসবাসকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সমীক্ষাতেই ৬০০ জন বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ”চিহ্নিত বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের শ্রীনগরে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান। জনমিতি পরিবর্তন ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকরের নেতৃত্বে গঠিত ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ গত ২৬ মে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমিটিকে এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তারা গত ১৫ বছরের বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মীয় জনমিতি, শিল্পাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করছে। তবে এই অভিযান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট ২০২২ সালের এপ্রিলে রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকায় প্রায় ১৩ হাজার ৪০০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদকপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগেও ২০২১ সালের মার্চে যাচাইকরণ শেষে শতাধিক নথিহীন ব্যক্তিকে হীরানগরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ও পূর্ববর্তী পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করলেও, ভারতের বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্রবিহীন সকল বিদেশি নাগরিককেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ভারতের করদাতাদের অর্থে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে লালন করা হবে না। তাদের নীতি হলো—চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বিতাড়ন (ডিট্যক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট)।

Facebook Comments Box