ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সে কেন ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা? মিডওয়াইফের ৯১৪ পদে নিয়োগের প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত: মনসুরের আত্মিক শান্তি ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগেই দোকানে সার বিক্রেতার সাইনবোর্ড ঢাকায় হত্যার শিকার রাকিবের লাশ ডিমলার বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন বিরলের তাজ আল মিনার গাজীপুরে প্রেমিকের বাসায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, গ্রেপ্তার শান্ত চরফ্যাশনে আইনজীবী সমিতির এপিপি হিরনের সদস্যপদ ছয় মাস স্থগিত ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত আসছে নতুন নীতিমালা বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র কামারুম মুনিরা

ফ্রান্সে কেন ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে বয়সে শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিতে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সের হাজারো কিশোর-কিশোরী এখন ফ্রান্সের রাজপথে নেমেছে। কয়েকটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনটি এখন কেবল শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নয়, বরং তরুণদের ভবিষ্যৎ ও ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা সংকট নিয়ে জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দেশের প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি লিসের মধ্যে ৮৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সরকারি হিসাবে ওই দিন সারা দেশে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্যারিসের বাইরের বিভিন্ন শহরের মিছিলে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন, এছাড়া প্যারিসের মিছিলে আরও ২০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। সরকার অবশ্য বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় পরিণত হওয়ায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো এখনও শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও সুযোগের সমতা ঘিরে। ফ্রান্সের বর্তমান আন্দোলনের পরিণতিও।

শিক্ষার্থীদের মূল ক্ষোভের জায়গা হলো দৈনন্দিন শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক দশা। জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব, শিক্ষক সংকট এবং কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা তাদের বড় কষ্টের কারণ। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে যে, অনেক স্কুল ভবনে পানি পড়ে, টয়লেট অপরিচ্ছন্ন, এমনকি ইঁদুরের উপদ্রবও রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও দীর্ঘ যাতায়াত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ‘Parcoursup’ ব্যবস্থা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। তারা মনে করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কেবল নম্বর ও প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বেশি, কারণ সব অঞ্চলে শিক্ষার আধুনিক সুবিধা সমান নয়। তাদের দাবি, শিক্ষা খাতে আরও অর্থ ও জনবল বরাদ্দ দেওয়া হোক। কিন্তু কেন রাস্তায় নামছে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। কোথাও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, আবার কোথাও মৌলিক অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়।

আন্দোলনটি দমনে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে আইনি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ২১৫ জন কিশোর এবং ৮৫ জন স্কুল কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এছাড়া সরকারি দপ্তরের হিসাবে ৭০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তর ফ্রান্সের লঁসে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর পুলিশের গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত ও বাহুর একাংশ হারিয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশি আচরণের মাত্রা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে সরকারের ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে উত্তর ফ্রান্সের লঁসে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা, মধ্যাহ্ন বিরতি বাড়ানো এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ সরকার এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবনা দেবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থী শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দেশটি দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাজেট সংকটের মুখে থাকায় শিক্ষা খাতে নতুন করে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিক্ষা নিয়ে তরুণদের এই ক্ষোভ এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। যদিও এই আন্দোলনকে এখনই সরকার পতনের আন্দোলন বলা যায় না, তবে এটি স্পষ্ট যে তরুণদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন যখন কোনো নির্দিষ্ট দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা দ্রুত ব্যাপক আকার ধারণ করে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন, নেপালে ২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলন কিংবা স্পেনে ২০২৬ সালের আবাসন সংকট ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, তরুণদের এই ক্ষোভকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব প্রাথমিক দাবির চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে কেন ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা?

আপডেট সময় : ০৮:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

যে বয়সে শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিতে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সের হাজারো কিশোর-কিশোরী এখন ফ্রান্সের রাজপথে নেমেছে। কয়েকটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনটি এখন কেবল শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নয়, বরং তরুণদের ভবিষ্যৎ ও ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা সংকট নিয়ে জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দেশের প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি লিসের মধ্যে ৮৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সরকারি হিসাবে ওই দিন সারা দেশে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্যারিসের বাইরের বিভিন্ন শহরের মিছিলে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন, এছাড়া প্যারিসের মিছিলে আরও ২০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। সরকার অবশ্য বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় পরিণত হওয়ায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো এখনও শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও সুযোগের সমতা ঘিরে। ফ্রান্সের বর্তমান আন্দোলনের পরিণতিও।

শিক্ষার্থীদের মূল ক্ষোভের জায়গা হলো দৈনন্দিন শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক দশা। জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব, শিক্ষক সংকট এবং কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা তাদের বড় কষ্টের কারণ। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে যে, অনেক স্কুল ভবনে পানি পড়ে, টয়লেট অপরিচ্ছন্ন, এমনকি ইঁদুরের উপদ্রবও রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও দীর্ঘ যাতায়াত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ‘Parcoursup’ ব্যবস্থা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। তারা মনে করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কেবল নম্বর ও প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বেশি, কারণ সব অঞ্চলে শিক্ষার আধুনিক সুবিধা সমান নয়। তাদের দাবি, শিক্ষা খাতে আরও অর্থ ও জনবল বরাদ্দ দেওয়া হোক। কিন্তু কেন রাস্তায় নামছে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। কোথাও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, আবার কোথাও মৌলিক অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয়।

আন্দোলনটি দমনে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে আইনি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ২১৫ জন কিশোর এবং ৮৫ জন স্কুল কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এছাড়া সরকারি দপ্তরের হিসাবে ৭০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তর ফ্রান্সের লঁসে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর পুলিশের গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত ও বাহুর একাংশ হারিয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশি আচরণের মাত্রা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে সরকারের ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে উত্তর ফ্রান্সের লঁসে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, স্কুলের সময়সূচি পর্যালোচনা, মধ্যাহ্ন বিরতি বাড়ানো এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ সরকার এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবনা দেবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থী শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দেশটি দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাজেট সংকটের মুখে থাকায় শিক্ষা খাতে নতুন করে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিক্ষা নিয়ে তরুণদের এই ক্ষোভ এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। যদিও এই আন্দোলনকে এখনই সরকার পতনের আন্দোলন বলা যায় না, তবে এটি স্পষ্ট যে তরুণদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন যখন কোনো নির্দিষ্ট দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা দ্রুত ব্যাপক আকার ধারণ করে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন, নেপালে ২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলন কিংবা স্পেনে ২০২৬ সালের আবাসন সংকট ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, তরুণদের এই ক্ষোভকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব প্রাথমিক দাবির চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

Facebook Comments Box