গোপন নথি পাচারের অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:৫১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা বিএনডি-এর শীর্ষ দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে হ্যানিং একা ছিলেন না। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি। ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ম্যানফ্রেড ডি তার দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে সংরক্ষিত ও গোপনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতেন এবং অর্থের বিনিময়ে সেগুলো হ্যানিংয়ের কাছে হস্তান্তর করতেন। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, সংগৃহীত এসব তথ্যের ভিত্তিতে হ্যানিং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতেন। এর বাইরেও অন্য একটি বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তরা কোন নির্দিষ্ট দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। অর্থের বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হ্যানিংয়ের কর্মকাণ্ড প্রথম নজরে আসে একটি অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত ওই তদন্তের সময় পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস জব্দ করে। ডিভাইসটি পরীক্ষার সময় বিএনডির একাধিক সাম্প্রতিক ও গোপনীয় নথির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপরই তৎপর হয় জার্মান পুলিশ। মুনস্টারের নিকটবর্তী নর্ডওয়াল্ডে নিজ বাড়ি থেকে হ্যানিংকে এবং বাভারিয়া এলাকা থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে উভয়কেই আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগেও জার্মান গোয়েন্দা সংস্থায় এমন স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে কার্স্টেন এল নামে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপসংক্রান্ত গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ৪ লাখ ইউরো হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তার বিচারিক কার্যক্রম এখনো অব্যাহত আছে। বর্তমান দুই আসামির গ্রেপ্তার ও মামলার প্রক্রিয়া সেই পুরনো ঘটনার ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















