ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

কুড়িগ্রামে কমলা চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফারুক

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে কমলা চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফারুক

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে কমলা চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফারুক।

কুড়িগ্রামে চায়না ঝুড়ি জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন মোঃ আবু রায়হান ফারুক। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কাজী মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে।বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে রয়েছে শতাধিক কমলা গাছ।গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা।

চারা লাগানোর মাত্র দেড় বছরে গাছে কমলা আসতে শুরু করে। বর্তমান তার বাগানের বয়স আড়াই বছর। এ বছর তিনি বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ শুরু করছেন। আর মাত্র ২০ দিন পর বাগান থেকে প্রায় ১৫-২০মণ কমলা বিক্রি করার আশা করছেন। যা বর্তমান কমলার বাজার মূল্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।ফলে উৎপাদন ব্যয় বাদে দ্বিগুণ লাভ হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবু রায়হান ফারুক পড়াশোনা শেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কৃষিখাত বেচে নেন। বাবার জমিতে শুরু করেন সমন্বিত ফলের চাষ। প্রায় ৬ একর জমিতে রয়েছে দেশি বিদেশি নানান জাতের ফলের গাছ।

আম, মাল্টা, আঙুর চাষের পাশাপাশি কমলা চাষের উদ্যোগ নেন।প্রথমে বগুড়া শহর থেকে একটি চায়না ঝুড়ি কমলা জাতের গাছ সংগ্রহ করেন তিনি।

একটি গাছ থেকে কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে দুই বিঘা জমিতে ১০০ কমলা গাছ রোপণ করেন।কলমকৃত গাছের চারা থেকে দেড় বছরের মধ্যে কমলা পেতে শুরু করেন।বর্তমানে তিনি বানিজ্যিকভাবে কমলা চাষের স্বপ্ন বুনছেন।

কমলা বাগানে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই।সময়মত জৈব সার,কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক স্প্রে ব্যবহার করে কমলা গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

আবু রায়হান ফারুক বলেন, চাকরির পিছনে না ছুটে আমি কৃষিতে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেচে নেই।কমলা চাষের পাশাপাশি বাগানে বি়ভিন্ন রকমের ফলের গাছ আছে। তবে কমলার বাজার চাহিদা ভালো থাকায় কমলা চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়।

আমার দুবিঘা জমিতে চায়না ঝুড়ি কমলা জাতের শতাধিক কমলা গাছ রয়েছে। এটি মিষ্টি জাতের কমলা। অনেক সুসাধু। বর্তমান বাগানের বয়স আড়াই বছর। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করছি এ বছর কমলা বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের মানুষের কমলার চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি দেশের মধ্যে কমলার বানিজ্যিক চাষ করা যায় তাহলে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের দেশে রপ্তানী করা সম্ভব হবে।

কমলা বাগান দেখতে আসা মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফারুকের কমলা বাগান দেখে খুবই ভালো লেগেছে। চাকুরীর পিছনে না ছুটে কৃষিতে মনযোগ দিলে ভাল আয় করা সম্ভব। আমিও কমলা বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কৃষি বিভাগ যদি পাশে থাকে তাহলে কমলা চাষিরা আরো উপকৃত হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, কমলা চাষ জেলায় এক নতুন সম্ভাবনার চাষাবাদ। কমলা চাষের এখন পর্যন্ত কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় নাই। তবে ফারুকের কমলা বাগানে কৃষি বিভাগের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে কমলা চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফারুক

আপডেট সময় : ০৯:১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রামে কমলা চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফারুক।

কুড়িগ্রামে চায়না ঝুড়ি জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন মোঃ আবু রায়হান ফারুক। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কাজী মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে।বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে রয়েছে শতাধিক কমলা গাছ।গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা।

চারা লাগানোর মাত্র দেড় বছরে গাছে কমলা আসতে শুরু করে। বর্তমান তার বাগানের বয়স আড়াই বছর। এ বছর তিনি বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ শুরু করছেন। আর মাত্র ২০ দিন পর বাগান থেকে প্রায় ১৫-২০মণ কমলা বিক্রি করার আশা করছেন। যা বর্তমান কমলার বাজার মূল্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।ফলে উৎপাদন ব্যয় বাদে দ্বিগুণ লাভ হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবু রায়হান ফারুক পড়াশোনা শেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কৃষিখাত বেচে নেন। বাবার জমিতে শুরু করেন সমন্বিত ফলের চাষ। প্রায় ৬ একর জমিতে রয়েছে দেশি বিদেশি নানান জাতের ফলের গাছ।

আম, মাল্টা, আঙুর চাষের পাশাপাশি কমলা চাষের উদ্যোগ নেন।প্রথমে বগুড়া শহর থেকে একটি চায়না ঝুড়ি কমলা জাতের গাছ সংগ্রহ করেন তিনি।

একটি গাছ থেকে কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে দুই বিঘা জমিতে ১০০ কমলা গাছ রোপণ করেন।কলমকৃত গাছের চারা থেকে দেড় বছরের মধ্যে কমলা পেতে শুরু করেন।বর্তমানে তিনি বানিজ্যিকভাবে কমলা চাষের স্বপ্ন বুনছেন।

কমলা বাগানে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই।সময়মত জৈব সার,কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক স্প্রে ব্যবহার করে কমলা গাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

আবু রায়হান ফারুক বলেন, চাকরির পিছনে না ছুটে আমি কৃষিতে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেচে নেই।কমলা চাষের পাশাপাশি বাগানে বি়ভিন্ন রকমের ফলের গাছ আছে। তবে কমলার বাজার চাহিদা ভালো থাকায় কমলা চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়।

আমার দুবিঘা জমিতে চায়না ঝুড়ি কমলা জাতের শতাধিক কমলা গাছ রয়েছে। এটি মিষ্টি জাতের কমলা। অনেক সুসাধু। বর্তমান বাগানের বয়স আড়াই বছর। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করছি এ বছর কমলা বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের মানুষের কমলার চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি দেশের মধ্যে কমলার বানিজ্যিক চাষ করা যায় তাহলে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের দেশে রপ্তানী করা সম্ভব হবে।

কমলা বাগান দেখতে আসা মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফারুকের কমলা বাগান দেখে খুবই ভালো লেগেছে। চাকুরীর পিছনে না ছুটে কৃষিতে মনযোগ দিলে ভাল আয় করা সম্ভব। আমিও কমলা বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কৃষি বিভাগ যদি পাশে থাকে তাহলে কমলা চাষিরা আরো উপকৃত হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, কমলা চাষ জেলায় এক নতুন সম্ভাবনার চাষাবাদ। কমলা চাষের এখন পর্যন্ত কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় নাই। তবে ফারুকের কমলা বাগানে কৃষি বিভাগের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।

 

Facebook Comments Box