ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

কাউনিয়ায় ভূতরে বিলের চাপে দিশেহারা গ্রাহক: ক্ষোভের সৃষ্টি 

কাউনিয়া (রংপুর) আব্দুল কুদ্দুস বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় ভূতরে বিলের চাপে দিশেহারা গ্রাহক: ক্ষোভের সৃষ্টি 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাউনিয়ায় ভূতরে বিলের চাপে দিশেহারা গ্রাহক: ক্ষোভের সৃষ্টি

কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুতের ভূতরে বিলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণের অধিক বিল হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক গ্রাহকেই। বিগত সময়ে প্রতিমাসে যে বিল আসতো ৭শ টাকা, চলতি মাসে লাফিয়ে সেই বিল উঠেছে ১৭শ’ টাকায়। অবিশ্বাস্য এই ভূতরে বিলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।

 গ্রাহকদের অভিযোগ,পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় ব্যক্তির অবহেলা ও দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই এমনটি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিলের কারণে কাউনিয়ায় হয়রানির শিকার গ্রাহকরা এর প্রতিকার চেয়েছেন।

উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক হাসিনা বেগম জানান, তার বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাবদ প্রতিমাসে সাধারণত ১২ থেকে ১৩শ’ টাকা বিল হয়। কিন্তু গত জুলাই মাসে ১৫শ’ এবং আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে ধরা হয়েছে ৩৪০০ টাকা।

একই অভিযোগ একই গ্রামের শ্রীকান্ত সরকারের।তিনি জানান, তার বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ হিসাবে প্রতিমাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসলেও গত আগস্ট মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যুৎ বিলের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পরিমাণ দেখার লোক প্রতিমাসে ঠিকমত মিটারের কাছে না এসে বিল করায় এমন ঘটনা ঘটছে।

কুর্শা ইউনিয়নের মোশাররফ হোসেন বলেন জুলাই এর চেয়ে আগষ্টে ৩ গুণ বেশি বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এবিষয়ে জানতে গেলে এক কর্মকর্তা জানান, হয়তো আগের মাসে বিল কম ধরা হয়েছে তাই এ মাসে বেশি বিল এসেছে মিটারের সাথে আপনারা মিলিয়ে দেখেন।

গ্রাহকরা বলছেন যে পরিমান বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে তাই বিলের কপিতে উঠবে। কিন্তু প্রতি মাসে বিদ্যুৎতের বিল দ্বিগুণ তিনগুণ করে বাড়ছে।

উপজেলার টেপামধুপুরে ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকার আব্দুল বাতেন জানান,তিনি প্রতিমাসে তার বাড়িতে গড়ে ১৫-২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও বিলের কাগজে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে বিল আসে।

পূর্বচাঁনঘাট গ্রামের আবুল কাশেম বলেন আগের মাস গুলোতে মিটারে বিল আসতো ৬শ’ থেকে ৯শত টাকা কিন্তু এ মাসে বিল এসেছে ৩ হাজার ৬ শ’ টাকা।

একই অভিযোগ উপজেলার হারাগাছ,সারাই পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের।বাজারের মোবাইল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারীরা জানান, প্রায়ই গ্রাহকরা বিল পরিশোধের করতে এসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানাগেছে,কাউনিয়া উপজেলায় মোট ৪৪ হাজার ৬শ’ ৭৯ জন গ্রাহক রয়েছেন। কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়েছে।

অস্বাভাবিক বিল এসে থাকলে মিটারে সমস্যা থাকতে পারে। এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হলে ভুক্তভোগী গ্রাহককে অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। মিটার পরীক্ষাসহ মিটারের আগের ও পরের ব্যবহৃত ইউনিট দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ায় ভূতরে বিলের চাপে দিশেহারা গ্রাহক: ক্ষোভের সৃষ্টি 

আপডেট সময় : ১১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কাউনিয়ায় ভূতরে বিলের চাপে দিশেহারা গ্রাহক: ক্ষোভের সৃষ্টি

কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুতের ভূতরে বিলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণের অধিক বিল হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক গ্রাহকেই। বিগত সময়ে প্রতিমাসে যে বিল আসতো ৭শ টাকা, চলতি মাসে লাফিয়ে সেই বিল উঠেছে ১৭শ’ টাকায়। অবিশ্বাস্য এই ভূতরে বিলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।

 গ্রাহকদের অভিযোগ,পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় ব্যক্তির অবহেলা ও দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই এমনটি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিলের কারণে কাউনিয়ায় হয়রানির শিকার গ্রাহকরা এর প্রতিকার চেয়েছেন।

উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক হাসিনা বেগম জানান, তার বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাবদ প্রতিমাসে সাধারণত ১২ থেকে ১৩শ’ টাকা বিল হয়। কিন্তু গত জুলাই মাসে ১৫শ’ এবং আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে ধরা হয়েছে ৩৪০০ টাকা।

একই অভিযোগ একই গ্রামের শ্রীকান্ত সরকারের।তিনি জানান, তার বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ হিসাবে প্রতিমাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসলেও গত আগস্ট মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যুৎ বিলের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পরিমাণ দেখার লোক প্রতিমাসে ঠিকমত মিটারের কাছে না এসে বিল করায় এমন ঘটনা ঘটছে।

কুর্শা ইউনিয়নের মোশাররফ হোসেন বলেন জুলাই এর চেয়ে আগষ্টে ৩ গুণ বেশি বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এবিষয়ে জানতে গেলে এক কর্মকর্তা জানান, হয়তো আগের মাসে বিল কম ধরা হয়েছে তাই এ মাসে বেশি বিল এসেছে মিটারের সাথে আপনারা মিলিয়ে দেখেন।

গ্রাহকরা বলছেন যে পরিমান বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে তাই বিলের কপিতে উঠবে। কিন্তু প্রতি মাসে বিদ্যুৎতের বিল দ্বিগুণ তিনগুণ করে বাড়ছে।

উপজেলার টেপামধুপুরে ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকার আব্দুল বাতেন জানান,তিনি প্রতিমাসে তার বাড়িতে গড়ে ১৫-২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও বিলের কাগজে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে বিল আসে।

পূর্বচাঁনঘাট গ্রামের আবুল কাশেম বলেন আগের মাস গুলোতে মিটারে বিল আসতো ৬শ’ থেকে ৯শত টাকা কিন্তু এ মাসে বিল এসেছে ৩ হাজার ৬ শ’ টাকা।

একই অভিযোগ উপজেলার হারাগাছ,সারাই পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের।বাজারের মোবাইল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারীরা জানান, প্রায়ই গ্রাহকরা বিল পরিশোধের করতে এসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানাগেছে,কাউনিয়া উপজেলায় মোট ৪৪ হাজার ৬শ’ ৭৯ জন গ্রাহক রয়েছেন। কাউনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়েছে।

অস্বাভাবিক বিল এসে থাকলে মিটারে সমস্যা থাকতে পারে। এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হলে ভুক্তভোগী গ্রাহককে অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। মিটার পরীক্ষাসহ মিটারের আগের ও পরের ব্যবহৃত ইউনিট দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box