ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেতন করানো প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত 

সাপাহার (নওগাঁ) থেকে সোহেল চৌধুরী রানা
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেতন করানো প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর সাপাহারের এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেতন করানো প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু।

এমপিওভুক্তির আগে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে পরে নতুন নিয়োগের শিক্ষকদের বেতন করানো সেই প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের শুরু করেছে।

সাপাহারের তিলনী সরলী দাখিল মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুনভাবে অন্যদের বেতন করানো সেই সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এর আগে তদন্তের চিঠি করলেও তার ছেলের চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন বলে সময়ের আবেদন করেছিলেন তিনি।

এরপর গত রোববার আবারও তদন্তের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জাকির হোসেন। তিঁনি তদন্তের জন্য আগামী মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নিজ কার্যালয়ে দুই পক্ষকে উপস্থিত হতে বলেছেন।

জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্তের দিন ধার্য করে ১১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জাকির হোসেন চিঠি করেন।

চিঠি প্রাপ্তির পর অভিযুক্ত সুপার তার ছেলে অসুস্থ, তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা বলে সময়ের জন্য আবেদন করেছিলেন।

এরপর আগামী মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) তদন্তের দিন ধার্য করে গত সোমবার (২ অক্টোবর) আবারও পূর্বের স্মারক নাম্বারে চিঠি প্রেরণ করা হয় এবং ওই চিঠি দুই পক্ষকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্যাহ আল মামুনকে বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয় মাদ্রাসাটি। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বিনা বেতনে যেসব শিক্ষক-কর্মচারীরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়ে তিল তিল করে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের মধ্যে তিন জন শিক্ষককে বাদ দিয়ে বিধিবহির্ভূত ভাবে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য তিন জনের নামে এমপিও করিয়েছেন মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরুজ হোসেন।

গত ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এ পূর্বের শিক্ষকদের তথ্য আপলোড করা হয়। ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর নতুন করে পূর্বের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে ভূয়া তিন জনের নাম দেন এবং তাদের বেতন করিয়ে দেন মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট।

এমপিওভুক্তির পূর্বের শিক্ষকগণ করোনার সময় সরকারি অনুদান পেয়েছেন। এমনকি তারা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পোলিং অফিসার হিসেবে ভোট গ্রহণও করেন। এরপরও তাদের বাদ দিয়ে ভূয়া ভাবে অন্যদের এমপিও করানোয় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, দূর্ণীতিবাজ ওই সুপার আমাদেরকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভূয়া ওই তিন শিক্ষকের বেতন করিয়েছেন। এবিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলে, জেলা প্রশাসক স্যার তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারকে দায়িত্ব দেন।

স্যার তদন্তের জন্য চিঠি পাঠালে সুপার কৌশলে সময়ের আবেদন করেন। সেখানে তিনি তার ছেলে অসুস্থ তাকে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কিন্তু তার ছেলে অসুস্থ নয় এরং তিনি এপর্যন্ত তার ছেলেকে নিয়ে দেশের বাহিরে যায়নি। তিনি জেলা প্রশাসক স্যারকে ধোকা দিয়েছেন এবং নিয়মিত ভাবে মাদ্রাসায় যাচ্ছেন।

এবিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরোজ হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি গাড়িতে আছেন বলেন এবং গাড়ি থেকে নেমে কল করতে চান। পরবর্তীতে আবারও কল দিলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে আপনার এতো মাথা ব্যাথা ক্যান? এরপরই তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাঈম হোসেন বলেন, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট তার ছেলেকে নিয়ে ভারতে যাননি। তার ছেলেকে দেশেই চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় যাচ্ছেন।

পুনরায় পাঠানো তদন্তের চিঠি পৌঁছানোর সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারের পাঠানো চিঠি পাওয়ার পর পরই মাদ্রাসার প্রধানকে ও অভিযোগকারী শিক্ষকদেরকে সেই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেতন করানো প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত 

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩

নওগাঁর সাপাহারের এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেতন করানো প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু।

এমপিওভুক্তির আগে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে পরে নতুন নিয়োগের শিক্ষকদের বেতন করানো সেই প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের শুরু করেছে।

সাপাহারের তিলনী সরলী দাখিল মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তির আগের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুনভাবে অন্যদের বেতন করানো সেই সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এর আগে তদন্তের চিঠি করলেও তার ছেলের চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন বলে সময়ের আবেদন করেছিলেন তিনি।

এরপর গত রোববার আবারও তদন্তের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জাকির হোসেন। তিঁনি তদন্তের জন্য আগামী মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নিজ কার্যালয়ে দুই পক্ষকে উপস্থিত হতে বলেছেন।

জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্তের দিন ধার্য করে ১১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জাকির হোসেন চিঠি করেন।

চিঠি প্রাপ্তির পর অভিযুক্ত সুপার তার ছেলে অসুস্থ, তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা বলে সময়ের জন্য আবেদন করেছিলেন।

এরপর আগামী মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) তদন্তের দিন ধার্য করে গত সোমবার (২ অক্টোবর) আবারও পূর্বের স্মারক নাম্বারে চিঠি প্রেরণ করা হয় এবং ওই চিঠি দুই পক্ষকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্যাহ আল মামুনকে বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয় মাদ্রাসাটি। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বিনা বেতনে যেসব শিক্ষক-কর্মচারীরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়ে তিল তিল করে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের মধ্যে তিন জন শিক্ষককে বাদ দিয়ে বিধিবহির্ভূত ভাবে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য তিন জনের নামে এমপিও করিয়েছেন মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরুজ হোসেন।

গত ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এ পূর্বের শিক্ষকদের তথ্য আপলোড করা হয়। ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর নতুন করে পূর্বের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে ভূয়া তিন জনের নাম দেন এবং তাদের বেতন করিয়ে দেন মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট।

এমপিওভুক্তির পূর্বের শিক্ষকগণ করোনার সময় সরকারি অনুদান পেয়েছেন। এমনকি তারা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পোলিং অফিসার হিসেবে ভোট গ্রহণও করেন। এরপরও তাদের বাদ দিয়ে ভূয়া ভাবে অন্যদের এমপিও করানোয় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, দূর্ণীতিবাজ ওই সুপার আমাদেরকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভূয়া ওই তিন শিক্ষকের বেতন করিয়েছেন। এবিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলে, জেলা প্রশাসক স্যার তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারকে দায়িত্ব দেন।

স্যার তদন্তের জন্য চিঠি পাঠালে সুপার কৌশলে সময়ের আবেদন করেন। সেখানে তিনি তার ছেলে অসুস্থ তাকে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কিন্তু তার ছেলে অসুস্থ নয় এরং তিনি এপর্যন্ত তার ছেলেকে নিয়ে দেশের বাহিরে যায়নি। তিনি জেলা প্রশাসক স্যারকে ধোকা দিয়েছেন এবং নিয়মিত ভাবে মাদ্রাসায় যাচ্ছেন।

এবিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ফিরোজ হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি গাড়িতে আছেন বলেন এবং গাড়ি থেকে নেমে কল করতে চান। পরবর্তীতে আবারও কল দিলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে আপনার এতো মাথা ব্যাথা ক্যান? এরপরই তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাঈম হোসেন বলেন, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট তার ছেলেকে নিয়ে ভারতে যাননি। তার ছেলেকে দেশেই চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় যাচ্ছেন।

পুনরায় পাঠানো তদন্তের চিঠি পৌঁছানোর সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারের পাঠানো চিঠি পাওয়ার পর পরই মাদ্রাসার প্রধানকে ও অভিযোগকারী শিক্ষকদেরকে সেই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

Facebook Comments Box