ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজ বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা মিললেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম নিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার ব্যাটিং ধসে ২৭২ রানেই থামল বাংলাদেশ গোলকিপারের নৈপুণ্যে কারাবাও কাপের শেষ আটে ম্যান সিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেবে সরকার তুরাগ নদে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার পরিচয় স্থগিত হলো জাতীয় যুব মেলা, জানালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তুরাগ নদীতে মিলল বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি

উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে এর তীব্রতা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

জমির মালিক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১৫ দিন আগে নলকূপ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ চেষ্টার পরও পানি না পাওয়ায় শ্রমিকেরা কাজ স্থগিত করে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই খননকৃত গর্ত দিয়ে গ্যাস নির্গমন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, সাধারণ পাইপলাইনের গ্যাস লিকেজ হলে ভালভ বন্ধ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা যেত, কিন্তু ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস নির্গত হওয়ায় প্রথাগত পদ্ধতিতে আগুন নেভানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের উৎস এবং এর প্রকৃতি শনাক্ত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কাজ করছে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিকুন আরহামের মতে, ভূগর্ভস্থ কোনো দুর্বল স্তর বা ফাটল দিয়ে উচ্চচাপের গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে।

গ্যাসের নমুনায় উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলেও তাদের প্রাথমিক ধারণা।

বাপেক্সের অনুসন্ধান বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার জানিয়েছেন, নমুনা বিশ্লেষণের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এর প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মাটি বা বালি দিয়ে জোরপূর্বক গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা করলে তা অন্য স্থান দিয়ে বের হয়ে আসার ঝুঁকি থাকে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতেও প্রয়োজন পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ। তিনি আরও বলেন, এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলকে ইতোমধ্যেই ডাকা হয়েছে তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী হয়ে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উখিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাইজার নূর জানিয়েছেন, বাপেক্সের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পথে প্রায় ৩০০ মিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের নিচে আগুন জ্বলতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার এলাকা খালি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিকল্প লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ। এতে প্রায় চার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার

আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে এর তীব্রতা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

জমির মালিক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১৫ দিন আগে নলকূপ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ চেষ্টার পরও পানি না পাওয়ায় শ্রমিকেরা কাজ স্থগিত করে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই খননকৃত গর্ত দিয়ে গ্যাস নির্গমন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, সাধারণ পাইপলাইনের গ্যাস লিকেজ হলে ভালভ বন্ধ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা যেত, কিন্তু ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস নির্গত হওয়ায় প্রথাগত পদ্ধতিতে আগুন নেভানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের উৎস এবং এর প্রকৃতি শনাক্ত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কাজ করছে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিকুন আরহামের মতে, ভূগর্ভস্থ কোনো দুর্বল স্তর বা ফাটল দিয়ে উচ্চচাপের গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে।

গ্যাসের নমুনায় উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলেও তাদের প্রাথমিক ধারণা।

বাপেক্সের অনুসন্ধান বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার জানিয়েছেন, নমুনা বিশ্লেষণের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এর প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মাটি বা বালি দিয়ে জোরপূর্বক গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা করলে তা অন্য স্থান দিয়ে বের হয়ে আসার ঝুঁকি থাকে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতেও প্রয়োজন পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ। তিনি আরও বলেন, এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলকে ইতোমধ্যেই ডাকা হয়েছে তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী হয়ে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উখিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাইজার নূর জানিয়েছেন, বাপেক্সের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পথে প্রায় ৩০০ মিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের নিচে আগুন জ্বলতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার এলাকা খালি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিকল্প লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ। এতে প্রায় চার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছেন।

Facebook Comments Box