ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ইসরাইলে নতুন জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে গাদি আইজেনকট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৬ জনের। নির্বাচনের এই ফলাফলের পর সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট এখন ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের কথা ইতোমধ্যে আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়কেই অবহিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইজেনকট জানান, জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের এখনই উপযুক্ত সময়। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একক কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার নজির নেই, ফলে সবসময়ই জোট সরকার গঠিত হয়েছে।
তবে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি বড় ধরনের চমক তৈরি করেছে।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট—এই দুই জোট মিলে মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা তাদের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও বেশিরভাগ ইহুদি দলই নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো সরকার না গড়ার অঙ্গীকার করেছিল। এমন ফলাফলে আরব দলগুলো সরকার গঠনের অন্যতম কিংমেকার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি মূল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার। দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট অথবা আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকটের সরকার। যদিও আইজেনকট ও তার ব্লকের বেশিরভাগ সদস্য আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধী, তবুও পর্দার আড়ালে সমঝোতার গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও চুক্তি করার জটিল পথ খোলা রয়েছে তার সামনে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নেতানিয়াহু এবং বেনি গ্যান্টস রোটেশনাল বা হাতবদলের ভিত্তিতে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে এসেছিলেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী হয়েছে ইসরাইল, যেখানে সমঝোতার অভাবে তিন বছরের মধ্যে পাঁচবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল গভর্মেন্ট) ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন।
সূত্র: যুগান্তর
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























