জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে তিনি শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া দ্রুত সহজ করার আহ্বান জানান। তার প্রশ্ন ছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো সিদ্ধান্ত একদিন বা সাত দিনে নিতে পারে, তবে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হয়ে গেলেও কেন তা সম্ভব হচ্ছে না?
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এই প্রশ্নের জবাবে জানান, সরকার জনগণের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুসরণ করে ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) যেকোনো মূল্যের জন্য প্রযোজ্য। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রণীত বিধি মেনেই সরকার কাজ করছে এবং প্রয়োজনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা সংশোধন করা হবে।
সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন তার সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ করেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যদি মন্ত্রিসভার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া সহজ করে, তবে দেশের ২০ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুনরায় প্রশ্ন রাখেন, ছয় মাস চলে গেল, আর কতদিন লাগবে?
এই প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসায় তাদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সাধারণ আইন বা সংবিধান মানতে বাধ্য ছিল না, যা তাদের জন্য একটি সাময়িক বাস্তবতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়ায় প্রতিটি কাজ আইন-কানুনের ভেতরে থেকেই করতে হয়।
আইনমন্ত্রী সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের তোলা দাবিকে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে নিয়ম-কানুন মেনে চলার কারণে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। তাড়াহুড়ো করে আইনের ব্যত্যয় ঘটালে দেশবাসীর কাছে জবাবদিহিতার ঝুঁকি থাকে। তবে কর্মসংস্থান কেবল টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
Leave a Reply