ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিমালার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থানকারী (অনশোর) শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) আবেদনের সুযোগ অনেকটা সংকুচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গী ও নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্যও পরিবর্তন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এখন থেকে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে দেশটিতে পড়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে। শুধু আবেদন করাই নয়, ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার সীমানার বাইরে থাকতে হবে।

পরিবর্তন সমুহ

  1. নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কোর্স শেষ করতে ১২ মাস অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়া, পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন, প্রতিরক্ষা বিভাগ বা ডিএফএটি-এর পৃষ্ঠপোষকতা থাকা, স্কুল পর্যায়ের পড়াশোনা, অথবা উচ্চতর একিউএফ স্তরের কোর্সে ভর্তি হওয়া।
  2. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
  3. পিএইচডি শিক্ষার্থী, সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট প্যাসিফিক বা আসিয়ান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবারের সদস্য নেওয়ার সুযোগে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়মে সাধারণ আবেদনকারীরা আগে থেকেই পরিবারের সদস্য যুক্ত করতে পারবেন না। স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করার সুযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিষয়ে কোনো বিশেষ অব্যাহতি নেই।

আবেদন ও ফি সংক্রান্ত তথ্য

  1. গত ২ অক্টোবর বা তার আগে জমা দেওয়া ভিসা আবেদনগুলো নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে না; এগুলো পুরনো নিয়ম অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে।
  2. অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে হলে কোনো ধরনের ব্রিজিং ভিসা প্রদান করা হবে না।
  3. চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ফি বাড়িয়ে ২,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২,০০০ ডলার। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই ফি-তে ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে যে, যাদের অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার কথা, তারা দেশের ভেতর থেকে আবেদন করলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই ভর্তি কিংবা ভিসার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্টদের ভিসার ধরন এবং কোর্স অনুযায়ী নিয়মাবলী যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি, বরং আবেদনের শর্ত ও পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির নিয়মে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর সেটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় অন্য কোনো বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে। নতুন নিয়মের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ভিজিটর বা অন্যান্য টেম্পোরারি ভিসাধারীদের জন্য দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা-তে যাওয়ার পরিকল্পনা আগের তুলনায় জটিল হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিমালার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থানকারী (অনশোর) শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) আবেদনের সুযোগ অনেকটা সংকুচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গী ও নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্যও পরিবর্তন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এখন থেকে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে দেশটিতে পড়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে। শুধু আবেদন করাই নয়, ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার সীমানার বাইরে থাকতে হবে।

পরিবর্তন সমুহ

  1. নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কোর্স শেষ করতে ১২ মাস অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়া, পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন, প্রতিরক্ষা বিভাগ বা ডিএফএটি-এর পৃষ্ঠপোষকতা থাকা, স্কুল পর্যায়ের পড়াশোনা, অথবা উচ্চতর একিউএফ স্তরের কোর্সে ভর্তি হওয়া।
  2. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
  3. পিএইচডি শিক্ষার্থী, সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট প্যাসিফিক বা আসিয়ান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবারের সদস্য নেওয়ার সুযোগে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়মে সাধারণ আবেদনকারীরা আগে থেকেই পরিবারের সদস্য যুক্ত করতে পারবেন না। স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করার সুযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিষয়ে কোনো বিশেষ অব্যাহতি নেই।

আবেদন ও ফি সংক্রান্ত তথ্য

  1. গত ২ অক্টোবর বা তার আগে জমা দেওয়া ভিসা আবেদনগুলো নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে না; এগুলো পুরনো নিয়ম অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে।
  2. অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে হলে কোনো ধরনের ব্রিজিং ভিসা প্রদান করা হবে না।
  3. চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ফি বাড়িয়ে ২,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২,০০০ ডলার। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই ফি-তে ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে যে, যাদের অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার কথা, তারা দেশের ভেতর থেকে আবেদন করলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই ভর্তি কিংবা ভিসার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্টদের ভিসার ধরন এবং কোর্স অনুযায়ী নিয়মাবলী যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি, বরং আবেদনের শর্ত ও পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির নিয়মে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর সেটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় অন্য কোনো বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে। নতুন নিয়মের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ভিজিটর বা অন্যান্য টেম্পোরারি ভিসাধারীদের জন্য দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা-তে যাওয়ার পরিকল্পনা আগের তুলনায় জটিল হয়েছে।

 

Facebook Comments Box