ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অগ্রিম টাকা নিয়েও মাহফিলে এলেন না মাওলানা হাসিবুর

সুবর্ণচর থেকে আহসান হাবীব
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

অগ্রিম টাকা নিয়েও মাহফিলে এলেন না মাওলানা হাসিবুর

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওয়াজ মাহফিলে আসার জন্য অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েও প্রধান বক্তা মাহফিলে আসেন নি। ওই মাহফিলে ইসলামি বক্তা মাওলানা এম হাসিবুর রহমান সিলেটিল আসার কথা ছিল।।

জানা গেছে, শুক্রবার (১১ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলায় রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার এ মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।ঊপজেলার নাগের দিঘিরপাড় জামে মসজিদের উদ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাহফিলে প্রধান তাফসিরকারক মাওলানা এম হাসিবুর রহমানের হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি অগ্রিম টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তূ তিনি মাহফিলে আসেননি। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

মাহফিল কমিটির সভাপতি নুরে আলম মানিক জানান , আমি সহ সবাই মিলে মাওলানা এম হাসিবুর রহমান সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করি। ওয়াজ করার জন্য তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এর মধ্যে মাহফিলে আসার জন্য তার ইসলামী ব্যাংক (২০৫০৩০৪০১০১০৫০২) অ্যাকাউন্ট নম্বরে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছি। বাকি টাকা মাহফিলে আসার পর দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তিনি মাহফিলে আসেননি।

তিনি আরো বলেন, আমরা খবর পেয়েছি মাওলানা হাসিবুর রহমান বেশি টাকা পেয়ে অন্য মাহফিল গিয়েছেন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ওয়াজের যুব কমিটির সদস্য ফয়েজ বলেন, চুক্তির ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নিয়েও মাহফিলে না এসে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মাওলানা এম হাসিবুর রহমান। আমরা টাকা ফেরত চাই।

এ বিষয়ে মাওলানা এম হাসিবুর রহমানের ছোট ভাই হাবিব আফজাল বলেন, মাহফিল কমিটির দায়িত্বে অবহেলাসহ ওয়াদার খেলাপ ও নিরাপত্তার কারণে আমারা মাহফিলে যাইনি। তাদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

এঘটনায় সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে, ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর জেলায়
‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা হাসিবুর রহমান  তার ফেসবুকে থেকে জানা যায়,গতকাল লক্ষীপুরের একটা মাহফিল নিয়ে মিথ্যাচার চলছে। যারা সত্যতা যাচাই না করে নিজেদেরকে গুণাহের দিকে ধাবিত করেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ক্ষমা করে দিন।

একজন আলোচক মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েও কতোটা কষ্ট পেলে রাস্তা থেকে ফেরত চলে আসেন তা আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।

উনাদের একটাই অভিযোগ কিছু টাকার জন্য আমি মাহফিলে যাইনি। উনাদের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে, আমি কেন মাহফিলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে অর্ধেক রাস্তা থেকে আবার ঘরেই ফেরত এসেছি? উনারাই স্বীকার করেছেন আমি বাদ জুমা মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে ফেলেছি। তাহলে রাস্তায় এমন কি হল যার কারণে সাথে সাথে তাদের এডভান্স ফেরত দিয়ে রাস্তা থেকে আমাকে চলে আসতে হয়েছে?

তারা এটাও বলেছে , তাদের প্রোগ্রামে না গিয়ে অন্যকোথাও মাহফিল নিয়ে আমি চলে গেছি। বাস্তবতা হল গতকাল আমি কোথাও আর প্রোগ্রাম রাখিনি এবং বাড়িতেই ফেরত এসেছি।

গতকাল মাহফিলের দিন ফজর থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মাহফিল কমিটি নিজ থেকে কোনো যোগাযোগ করেনি। ব্যাপারটা এমন যে মেহমান দাওয়াত করে দাওয়াতকারী গাফেল। বিষয়টি আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। আপনারা জানেন, গত দুইবছর আগে কুমিল্লার লাকসাম সহো বেশকিছু অঞ্চলে আমার উপর হামলা ও আমার গাড়ি ভাংচুরের পর থেকে কোনো কমিটির প্রতি সন্তুষ্ট হতে না পারলে ঐ প্রোগ্রামে আমি আর যেতে পারিনা। এটা আমার অপারগতা বলতে পারেন।

সকাল থেকে যোগাযোগ না থাকায় বিকাল সাড়ে ৩টার পর আমার ছোট ভাই জানতে চায়, আপনাদের যোগাযোগ নেই মাহফিল হবে কি না? জানালো-হবে তো রওয়ানা দেন। যোগাযোগে ও কথা-বার্তায় আন্তরিকতা না পেয়েও রওয়ানা দিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর আমার ছোট ভাই আবারো জানতে চাইলো মাহফিল হবে কী না?

আপনারা মাহফিল নেয়ার সময় আপনাদের দেয়া ওয়াদা রক্ষা করেন নি এবং সকাল থেকে আপনারা যোগাযোগও করেন নি। আপনাদের দেয়া অগ্রিম খরচ কি পাঠিয়ে দিবো? তারা বিকাশ নাম্বার দিয়ে বললেন এই নাম্বারে পাঠিয়ে দেন।

সন্ধ্যা ৭টার পর তাদের কথামতো সেই বিকাশ নাম্বারে আমরা তাদের সকল এডভান্স পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের গাফলতির কারণে আমরা যেতে পারলাম না অথচ তারা উপস্থিত শ্রোতাদের রোষা’নল থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বললেন আমরা খরচ এডভান্স নিয়ে মাহফিলে যাই নি এবং সেটা ফেরতও দেই নি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অগ্রিম টাকা নিয়েও মাহফিলে এলেন না মাওলানা হাসিবুর

আপডেট সময় : ০৯:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২

ওয়াজ মাহফিলে আসার জন্য অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েও প্রধান বক্তা মাহফিলে আসেন নি। ওই মাহফিলে ইসলামি বক্তা মাওলানা এম হাসিবুর রহমান সিলেটিল আসার কথা ছিল।।

জানা গেছে, শুক্রবার (১১ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলায় রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার এ মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।ঊপজেলার নাগের দিঘিরপাড় জামে মসজিদের উদ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাহফিলে প্রধান তাফসিরকারক মাওলানা এম হাসিবুর রহমানের হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি অগ্রিম টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তূ তিনি মাহফিলে আসেননি। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

মাহফিল কমিটির সভাপতি নুরে আলম মানিক জানান , আমি সহ সবাই মিলে মাওলানা এম হাসিবুর রহমান সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করি। ওয়াজ করার জন্য তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এর মধ্যে মাহফিলে আসার জন্য তার ইসলামী ব্যাংক (২০৫০৩০৪০১০১০৫০২) অ্যাকাউন্ট নম্বরে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছি। বাকি টাকা মাহফিলে আসার পর দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তিনি মাহফিলে আসেননি।

তিনি আরো বলেন, আমরা খবর পেয়েছি মাওলানা হাসিবুর রহমান বেশি টাকা পেয়ে অন্য মাহফিল গিয়েছেন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ওয়াজের যুব কমিটির সদস্য ফয়েজ বলেন, চুক্তির ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নিয়েও মাহফিলে না এসে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মাওলানা এম হাসিবুর রহমান। আমরা টাকা ফেরত চাই।

এ বিষয়ে মাওলানা এম হাসিবুর রহমানের ছোট ভাই হাবিব আফজাল বলেন, মাহফিল কমিটির দায়িত্বে অবহেলাসহ ওয়াদার খেলাপ ও নিরাপত্তার কারণে আমারা মাহফিলে যাইনি। তাদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

এঘটনায় সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে, ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর জেলায়
‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা হাসিবুর রহমান  তার ফেসবুকে থেকে জানা যায়,গতকাল লক্ষীপুরের একটা মাহফিল নিয়ে মিথ্যাচার চলছে। যারা সত্যতা যাচাই না করে নিজেদেরকে গুণাহের দিকে ধাবিত করেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ক্ষমা করে দিন।

একজন আলোচক মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েও কতোটা কষ্ট পেলে রাস্তা থেকে ফেরত চলে আসেন তা আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।

উনাদের একটাই অভিযোগ কিছু টাকার জন্য আমি মাহফিলে যাইনি। উনাদের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে, আমি কেন মাহফিলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে অর্ধেক রাস্তা থেকে আবার ঘরেই ফেরত এসেছি? উনারাই স্বীকার করেছেন আমি বাদ জুমা মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে ফেলেছি। তাহলে রাস্তায় এমন কি হল যার কারণে সাথে সাথে তাদের এডভান্স ফেরত দিয়ে রাস্তা থেকে আমাকে চলে আসতে হয়েছে?

তারা এটাও বলেছে , তাদের প্রোগ্রামে না গিয়ে অন্যকোথাও মাহফিল নিয়ে আমি চলে গেছি। বাস্তবতা হল গতকাল আমি কোথাও আর প্রোগ্রাম রাখিনি এবং বাড়িতেই ফেরত এসেছি।

গতকাল মাহফিলের দিন ফজর থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মাহফিল কমিটি নিজ থেকে কোনো যোগাযোগ করেনি। ব্যাপারটা এমন যে মেহমান দাওয়াত করে দাওয়াতকারী গাফেল। বিষয়টি আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। আপনারা জানেন, গত দুইবছর আগে কুমিল্লার লাকসাম সহো বেশকিছু অঞ্চলে আমার উপর হামলা ও আমার গাড়ি ভাংচুরের পর থেকে কোনো কমিটির প্রতি সন্তুষ্ট হতে না পারলে ঐ প্রোগ্রামে আমি আর যেতে পারিনা। এটা আমার অপারগতা বলতে পারেন।

সকাল থেকে যোগাযোগ না থাকায় বিকাল সাড়ে ৩টার পর আমার ছোট ভাই জানতে চায়, আপনাদের যোগাযোগ নেই মাহফিল হবে কি না? জানালো-হবে তো রওয়ানা দেন। যোগাযোগে ও কথা-বার্তায় আন্তরিকতা না পেয়েও রওয়ানা দিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর আমার ছোট ভাই আবারো জানতে চাইলো মাহফিল হবে কী না?

আপনারা মাহফিল নেয়ার সময় আপনাদের দেয়া ওয়াদা রক্ষা করেন নি এবং সকাল থেকে আপনারা যোগাযোগও করেন নি। আপনাদের দেয়া অগ্রিম খরচ কি পাঠিয়ে দিবো? তারা বিকাশ নাম্বার দিয়ে বললেন এই নাম্বারে পাঠিয়ে দেন।

সন্ধ্যা ৭টার পর তাদের কথামতো সেই বিকাশ নাম্বারে আমরা তাদের সকল এডভান্স পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের গাফলতির কারণে আমরা যেতে পারলাম না অথচ তারা উপস্থিত শ্রোতাদের রোষা’নল থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বললেন আমরা খরচ এডভান্স নিয়ে মাহফিলে যাই নি এবং সেটা ফেরতও দেই নি।

Facebook Comments Box