রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ষষ্ঠ ব্যাচের ইন্টার্নদের পথচলা শুরু
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৭১৫ বার পড়া হয়েছে
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ষষ্ঠ ব্যাচের ইন্টার্নদের পথচলা শুরু
তত্ত্বের বাইরে হাতে-কলমে মানবসেবার অঙ্গীকার
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের করিডোর জুড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ছিল এক ধরনের উচ্ছ্বাস।
সাদা এপ্রোনে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা কেউ ডাক্তারি জীবনের নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত, কেউবা মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা স্বপ্নকে বাস্তবের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত। তারিখটি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দিনটি হয়ে রইল রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। তত্ত্বীয় জ্ঞানের সীমানা পেরিয়ে মানবসেবার আসল মঞ্চে—ইন্টার্নশিপের এই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে।
যোগদান উপলক্ষে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দপ্তরে আয়োজন করা হয় এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার। ফুলেল শুভেচ্ছা আর প্রাণবন্ত কথোপকথনে মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল।
পড়ুন>>অনিয়ম এবং দূর্নীতি তদন্তে চিলাহাটি গার্লস স্কুলে বিভাগীয় শিক্ষা পরিচালক
প্রধান অতিথি ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কাইয়ুম তালুকদার (ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সংযুক্ত–রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক কো-অর্ডিনেটর মেডিকেল অফিসার ডা. হিরো চন্দ। নবীন চিকিৎসকরা একে একে ফুলের তোড়া গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের শপথে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইন্টার্নশিপ: চিকিৎসক জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ
অনুষ্ঠানে বক্তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ইন্টার্নশিপ হলো একজন সদ্য স্নাতক হওয়া চিকিৎসকের জন্য হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে তারা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান ব্যবহার করেন না, বরং রোগীদের সরাসরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
ডা. কাইয়ুম তালুকদার নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, রাঙামাটির ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত সুবিধার মধ্যেও রোগীর আস্থা অর্জন করাই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেবা হলো মানবতার শ্রেষ্ঠ কাজ—এই জায়গা থেকেই আপনাদের ডাক্তারি জীবনের প্রকৃত শুরু।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে ভেজাল টিএসপি সার ধ্বংস: তথ্য মেলেনি সরবরাহকারীর
পাহাড়ি জনপদের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার বাতাস
রাঙামাটি একটি পাহাড়ি জেলা, যেখানে দুর্গম পথ ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতায় নবীন চিকিৎসকদের যোগদান স্থানীয় মানুষের জন্য বাড়তি আশার আলো। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শুধু শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসা নয়, জেলা-উপজেলা থেকে আসা সাধারণ রোগীদের সেবা দিয়েই গড়ে তুলবেন মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
একজন নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসক অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এটা শুধু চাকরির প্রথম দিন নয়, যেন জীবনের এক নতুন পাঠশালা। এখানে শিখতে হবে কীভাবে সীমিত সম্পদ দিয়েও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া যায়।
দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির নতুন যাত্রা অনুষ্ঠান শেষে নবীন চিকিৎসকরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। ইন্টার্নশিপ চলবে আগামী এক বছর। এই সময়ে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিকসসহ নানা বিভাগের অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে থেকে তারা রোগীসেবার সব খুঁটিনাটি শিখবেন।
বিদায়ী বক্তব্যে ডা. শওকত আকবর খান বলেন, “আপনাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা রাঙামাটির স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করবে। সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু রোগীর মুখের হাসি হবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”
ইন্টার্নশিপ শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জনের একটি ধাপ নয়, বরং এটি মানবিকতার পাঠও। রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদে ষষ্ঠ ব্যাচের এই তরুণ চিকিৎসকদের যাত্রা একদিকে যেমন নতুন অভিজ্ঞতার, তেমনি এটি জেলার সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার বার্তাও বয়ে আনল। সাদা এপ্রোনে মোড়া এই তরুণ চিকিৎসকরা প্রমাণ করতে চান—মানবসেবা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি এক গভীর অঙ্গীকার।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























