ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাইকগাছা উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম গঠন বামনডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে রোমা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ডোমারের মির্জাগঞ্জ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ, ৫ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক  রাণীশংকৈলে পুলিশের জালে মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক রাণীশংকৈলে এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু; পুকুরে ডুবে শিশু, অভিমানে বিষপানে যুবক ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ নেতানিয়াহুর অভিযোগ ভিত্তিহীন, প্রত্যাখ্যান করল কাতার এআই ব্যবহার করে জনগণকে দমানো যাবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্থগিত হলো সিএনজি স্টেশনগুলোর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক, আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আটক

ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ পিপুল pipul

সৃষ্টি ভেষজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১ ২৭৬৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিপুল (Piper longum), (Pippali) যাকে কখনো কখনো ভারতীয় পিপুল নামে ডাকা হয়, এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি Piperaceae গোত্রের একটি লতাজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ যা ফলের জন্য চাষ করা হয়।গজ পিপুল নামে এর একটি উপজাত রয়েছে।পিপুল ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”পিপুল সুগন্ধিযুক্ত একটি লতানো গাছ। এর পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। পাতা লম্বায় ৪-৬ সেন্টিমিটার এবং চওড়ায় ২-৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ গাড় সবুজ এবং নিচের দিকটা হালকা সবুজ। প্রতিটি পর্ব ৭-১৩ সেন্টিমিটার লম্বা হতে দেখা যায়। এক সময়ে বন জঙ্গল ও বাড়ির আনাচে কানাচে প্রচুর পিপুল পাওয়া যেত। এখন আর খুঁজেই পাওয়া যায়।

 

জেনে নি>>  ভুট্টা চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশে  এর অনেক নাম রয়েছে।পেপুল শাক,বন পান,জংলা পান ইত্যাদি নামে পরিচিত । প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে খোলা অথবা বদ্ধ জায়গায় জন্মে এটি। লতা জাতীয় উদ্ভিদ বিধায় পরনির্ভরশীল হয়ে বিস্তার লাভ করে। বর্ষা মৌসুমে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।গ্রামে শাক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পপি বীজের সমান আকৃতির অসংখ্য পিপুল ফল একটি সংযুক্ত দন্ডে অবস্থান করে।এর পাতা ও ফুল দুটো্ই পান গাছের পাতা ও ফুলের মত।

জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ

পিপুল নানা ধরণের ভেষজ গুণসমৃদ্ধ একটি লতা গাছ। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী।একে শাক হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়। আবার অনেকে খায় কাঁচা চিবিয়ে।কেউবা ব্যবহার করে এন্টিবায়োটিক হিসেবে। দেশ-বিদেশে চাহিদাও প্রচুর।ঔষধ শিল্পে প্রচুর ব্যবহৃত হয়।পিপুল সম্পর্কে প্রথম জানা যায় প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর ঔষধি ও খাদ্যগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । খ্রিস্টের জন্মের ৬ষ্ঠ বা ৫ম শতক পূর্বে গ্রীসে এটি পরিচিতি লাভ করে। মসল্লা অপেক্ষা ঔষধি গুণের জন্যই এটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন ‘হিপোক্রেটিস’। বর্তমানে ইউরোপীয় রন্ধন কার্যে এর ব্যবহার দূর্লভ হলেও ভারতীয় সবজি রান্নায়, উত্তর আমেরিকার মসলা মিশ্রণে এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়েশিয়ান রান্নায় বহুল ব্যবহার রয়েছে।

 

পিপুল শাককে এন্টিবায়োটিক হিসেবেও অভিহিত করেছেন পুষ্টিবিদরা। মূল থেকে শুরু করে কান্ড ও পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণ। পিপুল শাকের পাতা ও ডালিমের পাতা একসঙ্গে মিহি করে বেঁটে মুখে ব্যবহার করলে ব্রন ও মেছতার দাগ দূরীভূত হয়।”পা-ফেঁটে গেলে এই শাকের পাতা ও গোল মরিচ বেঁটে সেখানে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এই শাক প্রসূতি মায়ের অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান করে থাকে। এই শাক রান্না করে প্রসূতি মাকে খাওয়ালে ক্ষতজনিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়।সর্দি,কাঁশি,হৃদপিন্ড সচল রাখতে ও যক্ষা নিরাময়ে পিপুল লতা খুব কার্যকরী। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘ভিটামিন কে (ক)’ বিদ্যমান। এছাড়া জন্ডিস নিরাময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।পিপুল শাক রান্না করে খেলে ব্যাথানাশক এন্টিহিস্টামিন হিসেবে মানব শরীরে জ্বর বা বাতজনিত ব্যথা উপশম করে থাকে।” ও পুষ্টিকর।

জেনে নিন>> অসীম উপকারী ফল তেঁতুল

পিপুল শাক আগের মতো দেখা যায় না। হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ। পিপুল লতা একদিকে আমাদের পারিবারিক পুষ্টির চহিদা মেটায় অন্যদিকে অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।”
সংকলন করেছেন: লুৎফুন নাহার লুবনা

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ পিপুল pipul”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ পিপুল pipul

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১

পিপুল (Piper longum), (Pippali) যাকে কখনো কখনো ভারতীয় পিপুল নামে ডাকা হয়, এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি Piperaceae গোত্রের একটি লতাজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ যা ফলের জন্য চাষ করা হয়।গজ পিপুল নামে এর একটি উপজাত রয়েছে।পিপুল ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”পিপুল সুগন্ধিযুক্ত একটি লতানো গাছ। এর পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। পাতা লম্বায় ৪-৬ সেন্টিমিটার এবং চওড়ায় ২-৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ গাড় সবুজ এবং নিচের দিকটা হালকা সবুজ। প্রতিটি পর্ব ৭-১৩ সেন্টিমিটার লম্বা হতে দেখা যায়। এক সময়ে বন জঙ্গল ও বাড়ির আনাচে কানাচে প্রচুর পিপুল পাওয়া যেত। এখন আর খুঁজেই পাওয়া যায়।

 

জেনে নি>>  ভুট্টা চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশে  এর অনেক নাম রয়েছে।পেপুল শাক,বন পান,জংলা পান ইত্যাদি নামে পরিচিত । প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে খোলা অথবা বদ্ধ জায়গায় জন্মে এটি। লতা জাতীয় উদ্ভিদ বিধায় পরনির্ভরশীল হয়ে বিস্তার লাভ করে। বর্ষা মৌসুমে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।গ্রামে শাক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পপি বীজের সমান আকৃতির অসংখ্য পিপুল ফল একটি সংযুক্ত দন্ডে অবস্থান করে।এর পাতা ও ফুল দুটো্ই পান গাছের পাতা ও ফুলের মত।

জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ

পিপুল নানা ধরণের ভেষজ গুণসমৃদ্ধ একটি লতা গাছ। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী।একে শাক হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়। আবার অনেকে খায় কাঁচা চিবিয়ে।কেউবা ব্যবহার করে এন্টিবায়োটিক হিসেবে। দেশ-বিদেশে চাহিদাও প্রচুর।ঔষধ শিল্পে প্রচুর ব্যবহৃত হয়।পিপুল সম্পর্কে প্রথম জানা যায় প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর ঔষধি ও খাদ্যগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । খ্রিস্টের জন্মের ৬ষ্ঠ বা ৫ম শতক পূর্বে গ্রীসে এটি পরিচিতি লাভ করে। মসল্লা অপেক্ষা ঔষধি গুণের জন্যই এটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন ‘হিপোক্রেটিস’। বর্তমানে ইউরোপীয় রন্ধন কার্যে এর ব্যবহার দূর্লভ হলেও ভারতীয় সবজি রান্নায়, উত্তর আমেরিকার মসলা মিশ্রণে এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়েশিয়ান রান্নায় বহুল ব্যবহার রয়েছে।

 

পিপুল শাককে এন্টিবায়োটিক হিসেবেও অভিহিত করেছেন পুষ্টিবিদরা। মূল থেকে শুরু করে কান্ড ও পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণ। পিপুল শাকের পাতা ও ডালিমের পাতা একসঙ্গে মিহি করে বেঁটে মুখে ব্যবহার করলে ব্রন ও মেছতার দাগ দূরীভূত হয়।”পা-ফেঁটে গেলে এই শাকের পাতা ও গোল মরিচ বেঁটে সেখানে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এই শাক প্রসূতি মায়ের অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান করে থাকে। এই শাক রান্না করে প্রসূতি মাকে খাওয়ালে ক্ষতজনিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়।সর্দি,কাঁশি,হৃদপিন্ড সচল রাখতে ও যক্ষা নিরাময়ে পিপুল লতা খুব কার্যকরী। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘ভিটামিন কে (ক)’ বিদ্যমান। এছাড়া জন্ডিস নিরাময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।পিপুল শাক রান্না করে খেলে ব্যাথানাশক এন্টিহিস্টামিন হিসেবে মানব শরীরে জ্বর বা বাতজনিত ব্যথা উপশম করে থাকে।” ও পুষ্টিকর।

জেনে নিন>> অসীম উপকারী ফল তেঁতুল

পিপুল শাক আগের মতো দেখা যায় না। হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ। পিপুল লতা একদিকে আমাদের পারিবারিক পুষ্টির চহিদা মেটায় অন্যদিকে অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।”
সংকলন করেছেন: লুৎফুন নাহার লুবনা

 

Facebook Comments Box