ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যে কাতারি আমিরের নামে ইনোভেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু কলকাতার রেস্তোরাঁ ও বাজার থেকে উধাও গরুর মাংস দৌলতপুরে বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ পাবনায় অটোভ্যান চালক নিখোঁজ ও উদ্ধারকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কাউনিয়ায় মাদক সেবন করে মাতলামী: দুই যুবকের কারাদণ্ড  বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করছেন সালমান এফ রহমান সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরত চায় সরকার প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে মারধর ও ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ঢলে নিয়ন্ত্রণ হারাল পুলিশ, ভুল হিসাবেই বিপত্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা নিয়ে পুলিশের ভুল হিসাবের কারণে সোমবার (২০ জুলাই) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, সর্বোচ্চ সাত থেকে আট হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে। তবে বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী চাপে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ একাধিক স্থানে ব্যারিকেড বসালেও তা ভেঙে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। পুলিশ সূত্র জানায়, যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রায় তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) সূত্রও জানিয়েছে, তারাও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি আশা করেনি।

পুলিশের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার সদস্য এবং ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যন্তর-মন্তরের চারটি প্রবেশপথ, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সোমবার সকালেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যন্তর-মন্তরে জড়ো হলে দিল্লির ১৪টি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সদর দপ্তর থেকে দুইজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারও দায়িত্ব নেন। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে মিছিলের অনুমতি নিয়ে তিন দফা আলোচনা করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে অগ্রযাত্রা ঠেকানো। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পরও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হয়ে বারবার সামনে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর এবং গাছের ডালপালা ছুড়ে মারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই আন্দোলনে জনসমাগম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ঢলে নিয়ন্ত্রণ হারাল পুলিশ, ভুল হিসাবেই বিপত্তি

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা নিয়ে পুলিশের ভুল হিসাবের কারণে সোমবার (২০ জুলাই) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, সর্বোচ্চ সাত থেকে আট হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে। তবে বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী চাপে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ একাধিক স্থানে ব্যারিকেড বসালেও তা ভেঙে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। পুলিশ সূত্র জানায়, যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রায় তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) সূত্রও জানিয়েছে, তারাও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি আশা করেনি।

পুলিশের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার সদস্য এবং ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যন্তর-মন্তরের চারটি প্রবেশপথ, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সোমবার সকালেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যন্তর-মন্তরে জড়ো হলে দিল্লির ১৪টি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সদর দপ্তর থেকে দুইজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারও দায়িত্ব নেন। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে মিছিলের অনুমতি নিয়ে তিন দফা আলোচনা করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে অগ্রযাত্রা ঠেকানো। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পরও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হয়ে বারবার সামনে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর এবং গাছের ডালপালা ছুড়ে মারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই আন্দোলনে জনসমাগম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।

Facebook Comments Box