ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে ১৬ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের প্রকোপ নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ফিনিশিংয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে শেখ মোরছালিনকে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস খাদে, নিহত ২ ও আহত ৩০

শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বের বর্তমান বিভক্ত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিয়নে ‘একটি বিভক্ত বিশ্বে সমৃদ্ধি: ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহ এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ লেকচারে তিনি এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও শান্তির প্রয়োজনীয়তা।

প্রথাগতভাবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের যে বিভাজন প্রচলিত রয়েছে, তা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ (Prosperous States) ধারণার প্রস্তাব করে বলেন, যে দেশগুলো আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে সফল হয়েছে, তাদের দায়বদ্ধতা কেবল নিজেদের উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত ও সুসংগঠিতভাবে কাজ করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা এড়াতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৪৫ পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শান্তি রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শান্তি কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং আইন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং উন্মুক্ত বাজারের ওপর ভিত্তি করেই তা টিকে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় ১২০টির বেশি দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ক্ষুদ্র দেশগুলোকে আধিপত্যবাদের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।

বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারিত হলেও শান্তি ও নিরাপত্তার বড় সিদ্ধান্তগুলো এখনো মুষ্টিমেয় কিছু শক্তির হাতে কুক্ষিগত রয়েছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংঘাতের সাথে সরাসরি জড়িত নয় এমন দেশগুলোকেও এর নেতিবাচক প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় বহন করতে হচ্ছে। সমুদ্রপথের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টিও তিনি তাঁর বক্তৃতায় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হুমকির মুখে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব রাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িত নয়, তাদেরও এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে।

কাতারের নিজস্ব কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-থানী জানান যে, দেশের ভবিষ্যৎ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না; বরং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের ওপরই তা টিকে থাকে। এই নীতি মেনেই কাতার বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতার পথ বেছে নিয়েছে।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা শান্তিকে মানবতার স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে বিশ্বাস করে না, তারা কাতার ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে না নিয়ে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই। শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে কোনো বিলাসিতা হিসেবে না দেখে একে টেকসই উন্নয়নের মূল শর্ত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নিষ্ক্রিয় না থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বের বর্তমান বিভক্ত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিয়নে ‘একটি বিভক্ত বিশ্বে সমৃদ্ধি: ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহ এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ লেকচারে তিনি এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও শান্তির প্রয়োজনীয়তা।

প্রথাগতভাবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের যে বিভাজন প্রচলিত রয়েছে, তা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ (Prosperous States) ধারণার প্রস্তাব করে বলেন, যে দেশগুলো আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে সফল হয়েছে, তাদের দায়বদ্ধতা কেবল নিজেদের উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত ও সুসংগঠিতভাবে কাজ করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা এড়াতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৪৫ পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শান্তি রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শান্তি কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং আইন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং উন্মুক্ত বাজারের ওপর ভিত্তি করেই তা টিকে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় ১২০টির বেশি দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ক্ষুদ্র দেশগুলোকে আধিপত্যবাদের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।

বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারিত হলেও শান্তি ও নিরাপত্তার বড় সিদ্ধান্তগুলো এখনো মুষ্টিমেয় কিছু শক্তির হাতে কুক্ষিগত রয়েছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংঘাতের সাথে সরাসরি জড়িত নয় এমন দেশগুলোকেও এর নেতিবাচক প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় বহন করতে হচ্ছে। সমুদ্রপথের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টিও তিনি তাঁর বক্তৃতায় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হুমকির মুখে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব রাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িত নয়, তাদেরও এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে।

কাতারের নিজস্ব কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-থানী জানান যে, দেশের ভবিষ্যৎ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না; বরং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের ওপরই তা টিকে থাকে। এই নীতি মেনেই কাতার বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতার পথ বেছে নিয়েছে।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা শান্তিকে মানবতার স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে বিশ্বাস করে না, তারা কাতার ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে না নিয়ে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই। শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে কোনো বিলাসিতা হিসেবে না দেখে একে টেকসই উন্নয়নের মূল শর্ত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নিষ্ক্রিয় না থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box