ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে ১৬ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের প্রকোপ নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ফিনিশিংয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে শেখ মোরছালিনকে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস খাদে, নিহত ২ ও আহত ৩০

৭ নভেম্বরে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

৭ নভেম্বরে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

 

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং দেশ ও জাতি লাভ করে নতুন দিকনির্দেশনা। এই বিশেষ দিনেই জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশকে শক্ত হাতে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও সিপাহী-জনতার বিপ্লব

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে একটি অভ্যুত্থান ঘটান। তার আগেই সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়।

 

পড়ুন>>গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত আড়াই লাখ ছাড়াল

নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করেন খালেদ মোশাররফ। একই সঙ্গে তিনি তৎকালীন মন্ত্রিসভা বাতিল এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। তবে ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সিপাহি-জনতার সেই মিলিত বিপ্লবে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সংহতির নজির সৃষ্টি হয় এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নেতৃত্বে চলে আসেন।

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতারা।

  1. সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে মাজার প্রাঙ্গণে এই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হয়।
  2. শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
  3. এ সময় বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং দলের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন ও রুট

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া এক বিশাল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর এটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৭ নভেম্বরে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

 

৭ নভেম্বরে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

 

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং দেশ ও জাতি লাভ করে নতুন দিকনির্দেশনা। এই বিশেষ দিনেই জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশকে শক্ত হাতে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও সিপাহী-জনতার বিপ্লব

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে একটি অভ্যুত্থান ঘটান। তার আগেই সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়।

 

পড়ুন>>গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত আড়াই লাখ ছাড়াল

নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করেন খালেদ মোশাররফ। একই সঙ্গে তিনি তৎকালীন মন্ত্রিসভা বাতিল এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। তবে ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সিপাহি-জনতার সেই মিলিত বিপ্লবে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সংহতির নজির সৃষ্টি হয় এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নেতৃত্বে চলে আসেন।

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতারা।

  1. সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে মাজার প্রাঙ্গণে এই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হয়।
  2. শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
  3. এ সময় বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং দলের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন ও রুট

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া এক বিশাল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর এটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

 

 

Facebook Comments Box