শীতের অতিথি পাখিতে মুখর চলনবিল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলে বেড়েছে দেশি ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। বিলে জলাশয়, ধানক্ষেত ও গাছপালাজুড়ে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাড়াশের উলিপুর গ্রামে পাখির নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠলেও চলনবিলের বিস্তৃত এলাকায় শিকারিদের দৌরাত্ম্য পাখির জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা পাখি রক্ষায় সোচ্চার হলেও নিয়মিত নজরদারি, শিকার বন্ধে কড়া পদক্ষেপ ও স্থায়ী পাহারাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে পাখি শিকারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। সকালে খাবারের সন্ধানে আশপাশের জলাশয় ও ফসলের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এসব পাখি। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে উলিপুর গ্রাম পাখির নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
জলাভূমি ও বিল এলাকা শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের প্রধান গন্তব্য। জলাভূমিতে পর্যাপ্ত শামুকের উপস্থিতির কারণে শামুকখোলের মতো পাখির জন্য এটি আদর্শ পরিবেশ। এখানে ডাহুক, ত্রিশূলবক, বালিহাঁস, রাতচরা, নীলশির ও লালশিরের মতো বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে খাদ্য সংকট, শিকারি এবং আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসায় এসব পাখির নিরাপদ বিচরণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পাখির প্রজাতির সংখ্যা নিয়ে তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে। বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী দেশে ৭১১ প্রজাতির পাখি থাকলেও, বার্ডস কানাডার সঙ্গে যুক্ত আরনধংবের তালিকায় বাংলাদেশে ৮৩৫ প্রজাতির পাখির তথ্য উল্লেখ রয়েছে। মূলত শ্রেণিবিন্যাস ও তালিকার পার্থক্যের কারণেই এই সংখ্যাগত ভিন্নতা তৈরি হয়েছে। শীতকালে এসব পাখি বাংলাদেশে আসে, তাই জলাভূমি ও ঝোপঝাড় সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, পাখির আন্তর্জাতিক তালিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা বার্ডস কানাডার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরনধংবের তালিকায় বাংলাদেশের ৮৩৫ প্রজাতির পাখির তথ্য রয়েছে।
উলিপুর গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই পাখির পাহারায় এগিয়ে এসেছেন। গ্রামের শত শত গাছে শামুকখোল, পানকৌড়ি, বক ও সারসের মতো পাখির বিষ্ঠায় দৈনন্দিন জীবনের কিছুটা অসুবিধা হলেও গ্রামবাসী তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন না। ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, গ্রামবাসী নিজেরাই পাহারা দিয়ে পাখি শিকারি কয়েকজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পাখির প্রতি গ্রামের মানুষের এই ভালোবাসা অতুলনীয়, তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী পাহারাদার প্রয়োজন।
সব এলাকায় অবশ্য এমন নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। তাড়াশের পাটগাড়িপাড়া মৌজায় সম্প্রতি ধানক্ষেতে পাখি ধরার ফাঁদ পাওয়া গেছে। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত পাখি শিকারের ঘটনা ঘটে। তাড়াশের বারুহাঁসসহ দুর্গম এলাকায় শিকারিরা ‘কেল্লা ফাঁদ’ ব্যবহার করে, যেখানে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষে সবসময় পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, দেশে পাখির সংখ্যার কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। চলনবিলে পরিযায়ী পাখির টিকে থাকাটা মূলত নিরাপদ আবাসস্থলের ওপরই নির্ভর করে। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত গাছ কাটা ও শিকারের কারণে পাখির আবাসস্থল হুমকির মুখে। পাখি বাঁচাতে জলাভূমি ও গাছপালা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, উলিপুর গ্রামকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাখির নিরাপত্তায় পাহারাদার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে এবং প্রশাসন পাখি শিকারের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ




















