ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি
চলতি মৌসুমে বিতর্ক ও নানা জটিলতার কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) স্থগিত রয়েছে। এতে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তা পুষিয়ে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভার এবং চার দিনের ম্যাচকে একই কাঠামোর আওতায় এনে ‘ডোমেস্টিক থ্রি’ বা ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিপিএল না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় বিসিবি। ডি-থ্রি ট্রফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আগে আলাদাভাবে আয়োজিত তিনটি প্রতিযোগিতা এখন একই কাঠামোর অধীনে আসছে। এই কাঠামোতে একই দলকে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলা ও চাপ সামলানোর দক্ষতার সঙ্গে চার দিনের ক্রিকেটে ধৈর্য, কৌশল এবং ধারাবাহিকতারও পরীক্ষা দিতে হবে।
পড়ুন>>কুরিয়ার ও পার্সেল ডেলিভারিতে ডিজিটাল পেমেন্ট আনল পাঠাও
ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনা, খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতার মান উন্নত করাই বিসিবির মূল উদ্দেশ্য। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন এই টুর্নামেন্টের ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদার পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়ানো, ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতাটিকে আরও পেশাদার করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বোর্ডের কাছে ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া ছিল উদ্বেগের বিষয়।
নতুন এই প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোতে বিসিবির তিনটি আলাদা টুর্নামেন্টকে একত্রে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও এক দিনের টুর্নামেন্ট। তিন সংস্করণ মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৪২টি ম্যাচ খেলা হবে। এর মধ্যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ৫০ ওভারের ম্যাচ এবং ৭টি চার দিনের ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পড়ুন>>পপি সংস্থায় সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ, বেতন ৯৮ হাজার টাকা
ডি-থ্রি ট্রফিতে মোট ৬টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলগুলো হলো—ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ। ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির আইকন ক্রিকেটার হিসেবে নির্ধারিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (ওয়ালটন), তাওহিদ হৃদয় (ফরচুন), মোসাদ্দেক হোসেন (একমি), মুশফিকুর রহিম (সেভেন রিংস সিমেন্ট), নুরুল হাসান (ব্লুস্টার) এবং মোহাম্মদ নাঈম (সিটিজেনস ব্যাংক)।
খেলোয়াড় নির্বাচনের জন্য অর্থভিত্তিক নিলামের বদলে পয়েন্টভিত্তিক নিলামের নিয়ম করা হয়েছে। স্কোয়াড গঠনের জন্য প্রতিটি দলকে ১০ কোটি পয়েন্টের বাজেট দেওয়া হবে। একটি দল নিলাম থেকে ২২ জন ক্রিকেটার নিতে পারবে এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের জন্য পয়েন্ট খরচে বাধ্যবাধকতা নেই। খেলোয়াড়দের ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তি পয়েন্ট ৪০ লাখ, ‘বি’ ৩০ লাখ, ‘সি’ ২০ লাখ, ‘ডি’ ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির জন্য ৫ লাখ পয়েন্ট ধরা হয়েছে। প্রতিটি দলের জন্য ১০ কোটি পয়েন্ট বরাদ্দ আছে।
এই পয়েন্টভিত্তিক নিলাম খেলোয়াড়দের সরাসরি পারিশ্রমিক নয়। ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি বাবদ বিসিবি নির্ধারিত অর্থ পাবেন। চার দিনের ম্যাচে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন>>ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান
সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ডি-থ্রি ট্রফির টি-টোয়েন্টি পর্ব দিয়ে মাঠের খেলা শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে বরিশালের জীবনানন্দ দাস ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং পরবর্তী ম্যাচগুলো ঢাকায় আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চার দিনের ক্রিকেট এবং মে মাসে ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

























