অপ্রতিম নিখোঁজ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তথ্য
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এখনো অপ্রতিমের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ওই বাসার দরজার পাশে লেখা রয়েছে—‘অপ্রতিমদের বাসা, প্রযত্নে নাহিদ ও শাহরিয়ার’। অথচ ১৩ বছরের অপ্রতিম আর বেঁচে নেই। তার নিখোঁজ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ একটি মাস। বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারানোর শোকে তার বাবা-মা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। শোকের ভারে তাঁদের কাছে সময় যেন থমকে আছে। ছেলের হাসি, কথা আর ছোটাছুটিতে একসময় মুখর থাকা বাসাটিতে এখনো ফিরে আসে তার স্মৃতি। অপ্রতিম হত্যা: দায় কেন মা–বাবা আর আইফোনকে দেওয়া হচ্ছে। তবে ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: মা মনে করছেন নেপথ্যের কারণ দুটি। এখন সেই প্রক্রিয়ায় গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, তাদের পুরো পৃথিবীটাই ছিল সন্তানকে কেন্দ্র করে। ফিরোজ শাহরিয়ার সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের পুরোটা অস্তিত্বজুড়ে ছেলেটা। তাকে নিয়ে আমার আর নাহিদার সব স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ফোনে কথা বলতে গেলেও অপ্রতিমের ছবিটা আমার আর নাহিদার সামনে ভেসে ওঠে।
সোমবার এক মুঠোফোন আলাপে তিনি বলেন, সন্তানকে ছাড়া জীবন কতটা শূন্য, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অপ্রতিমকে হারানোর পর থেকেই মা নাহিদা বেগম মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ছেলের অকাল প্রয়াণের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর তিনি ঢাকায় বোনের বাসায় চলে যান। এখনো সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। কীভাবে বাকিটা জীবন কাটাব, নিজেও জানি না।’। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে স্বজনেরা তাঁকে ঠিকমতো খাওয়াতেও পারছিলেন না। অবস্থাটা এমন হয়েছিল—আমিও তো সন্তানহারা। স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বা আমরা কে কাকে সান্ত্বনা দেব?’। ফিরোজ শাহরিয়ারের কথায়, স্ত্রীর সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখনই অপ্রতিমকে ঘিরে তাঁর অসহায়ত্বের কথা শোনেন। ফিরোজ শাহরিয়ারের ভাষায়, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয় কারও সঙ্গে ফোনে কথা বললে ভালো লাগবে।
ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, মেয়ের (স্ত্রী) শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়া এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। যদিও বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন, তবে ছেলের শোক এখনো কাটেনি। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থাতেও নেই। এখন কিছুটা ঘুমাতে পারছেন, খেতেও পারছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ীর বাসা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনতাইয়ের সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর এবং বাকি দুজন বড়। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজন এবং সহযোগিতাকারী একজন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এবং প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছিল।
বর্তমানে অপ্রতিমের পরিবারের মূল দাবি খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথিপত্র পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেছে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই-তিন কার্যদিবসের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ফিরোজ শাহরিয়ার পুলিশের এই অগ্রগতির বিষয়ে বলেন, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত বিচার দেখতে চান তারা। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর আইনজীবীর পরামর্শে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অপ্রতিমের স্বজনদের ভাষ্যমতে, একটি ছোট ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য যে নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারই এখন একমাত্র কাম্য।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























