শিশুদের সঠিক বিকাশেই দেশের ভবিষ্যৎ মজবুত: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
শিশুদের অন্তর্নিহিত প্রতিভা ও গুণাবলীর বিকাশে যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিক বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও শিশুদের বিকাশের ওপর নির্ভরশীল।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, এ আয়োজন মূলত তাদের নিয়েই, তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই বেশি জরুরি। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর দিকে তিনিও সেখানে শিশু হিসেবে এসেছিলেন। বর্তমানে শিশু একাডেমি যে ম্যাগাজিন প্রকাশ করে, সেখানে তিনি ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা একসময় প্রকাশিত হতো। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি বোর্ডে নিজের ও ভাইয়ের লেখা সেই পুরনো স্মৃতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হন। আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছ, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।
শিশুদের কেবল পড়াশোনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেকের ভেতরেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সঠিক সুযোগ। তিনি নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শিশুদের উৎসাহিত করেন। একইসঙ্গে যারা কেরাত বা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা সুন্দরভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।
প্রতিভা বিকাশে সরকারি উদ্যোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই খেলাধুলাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থী (১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে) ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সিলেট থেকে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এসব আয়োজন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের সব ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জের শিশুদের সুবিধার্থে স্কুল পর্যায় থেকেই সংগীত, শিল্প ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার কথা বিবেচনা করে স্কুল পর্যায় থেকে বিদেশি ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা শিশুদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে। একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।
শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল জ্ঞানার্জন নয়, প্রকৃতির প্রতিও যত্নশীল হতে হবে। বাড়ির আঙিনা কিংবা স্কুলের চারপাশে থাকা গাছের যত্ন নেওয়া এবং পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়ার মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























