ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবনের সরকারি বাসা থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু পরবর্তী নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনে নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের মধ্যস্থতায় মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই দম্পতি দুজনে মিলে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নজরুল তাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যাতে মরিয়মের চরম হতাশা ও ক্ষোভের কথা ফুটে উঠেছে। চিরকুটগুলোতে নজরুলকে লক্ষ্য করে মরিয়ম লিখেছেন, তিনি ভুল ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন এবং পরিস্থিতির কাছে হেরে গেছেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এমপি নজরুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সে সময় নজরুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ফুটেজ, তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো তা নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে নজরুল স্বীকার করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

ভিডিও ফাঁসের ওই ঘটনার জের ধরে গত ২২ জুলাই নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় এমপি নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনায় এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও নজরুল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দলটির ভাষ্যমতে, সাংগঠনিক তদন্তে নজরুলের ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারেও পাঠায় আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।’ ‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’—এটি লেখেন আরেকটি চিরকুটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার মামলা

আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবনের সরকারি বাসা থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু পরবর্তী নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনে নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের মধ্যস্থতায় মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই দম্পতি দুজনে মিলে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নজরুল তাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যাতে মরিয়মের চরম হতাশা ও ক্ষোভের কথা ফুটে উঠেছে। চিরকুটগুলোতে নজরুলকে লক্ষ্য করে মরিয়ম লিখেছেন, তিনি ভুল ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন এবং পরিস্থিতির কাছে হেরে গেছেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এমপি নজরুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সে সময় নজরুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ফুটেজ, তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো তা নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে নজরুল স্বীকার করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

ভিডিও ফাঁসের ওই ঘটনার জের ধরে গত ২২ জুলাই নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় এমপি নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনায় এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও নজরুল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দলটির ভাষ্যমতে, সাংগঠনিক তদন্তে নজরুলের ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারেও পাঠায় আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।’ ‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’—এটি লেখেন আরেকটি চিরকুটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী।

Facebook Comments Box