হেলমেট যেন মামলা এড়ানোর হাতিয়ার না হয়
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার লাফিয়ে বাড়ছে। বিআরটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৬৬ লাখ যানবাহনের মধ্যে ৪৮ লাখ ৭১ হাজারই মোটরসাইকেল, যা মোট যানবাহনের প্রায় ৭৪ শতাংশ। কিন্তু মোটরসাইকেলের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছর ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭২ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যা ওই সময়ের সড়ক দুর্ঘটনার মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশ। এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীদের জীবনের সুরক্ষায় মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
বাস্তবতা হলো, বাজারে সস্তায় মিলছে নিম্নমানের হেলমেট। কোথাও কোথাও মাত্র ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এসব হেলমেট, যা আসলে পাতলা প্লাস্টিকের টুপি ছাড়া আর কিছু নয়। আইনি হয়রানি বা পুলিশের জরিমানা থেকে বাঁচতে চালকরা এগুলো ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, হেলমেট ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য যেখানে জীবন বাঁচানো হওয়ার কথা, সেখানে তা কেবল মামলা এড়ানোর অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সময় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।
বাজারে মানচিহ্নিত হেলমেট থাকলেও এর বড় একটি অংশ গুণগত মান রক্ষা করতে পারছে না। গত ছয় মাসে পরীক্ষা করা ৪৯টি নমুনার মধ্যে ১২টিই মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, যার হার প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ। মানহীন এসব হেলমেট কেবল নিরাপত্তাই দেয় না, বরং দুর্ঘটনার সময় ভেঙে গিয়ে বা খুলে গিয়ে মাথা ও ঘাড়ের আঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। একটিমাত্র নমুনা পরীক্ষা করে পুরো চালান বাজারজাতকরণের বিদ্যমান পদ্ধতিটি তাই পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
মানহীন হেলমেটের দৌরাত্ম্য রুখতে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। উৎপাদন, আমদানি, পরিবেশন ও বিপণন—পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা জীবনরক্ষাকারী পণ্য নিয়ে অবহেলা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা, পণ্য জব্দ এবং পুনরাবৃত্তি ঘটালে ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। শুধু মানুষের চাহিদা আছে বলেই মানহীন পণ্য বিক্রি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সড়কে পুলিশের দায়িত্ব কেবল হেলমেট আছে কি না দেখা নয়, বরং হেলমেটটি আদৌ নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। তবে সড়কে যাত্রীদের জরিমানা করাই একমাত্র সমাধান নয়, বরং আমদানির উৎস পর্যায়েই নিম্নমানের পণ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে, মানসম্মত হেলমেট যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকে, সেজন্য শুল্ককাঠামো পর্যালোচনা ও করসুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। হেলমেট কোনো আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয় নয়, বরং এটি জীবন রক্ষার একটি আবশ্যিক সরঞ্জাম—এই সচেতনতা চালক ও আরোহীদের মধ্যে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। নিয়মিত বাজার তদারকি এবং কঠোর মাননিয়ন্ত্রণই পারে এই বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচাতে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























