বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাউনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ গ্রাহক পেলেন রাকুর আমানতের চেক নওগাঁ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর অচল: রোগীদের চরম দুর্ভোগ মিথ্যা মানববন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  ভূরুঙ্গামারীর তিলাই ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে চায়ের দোকানে বজ্রপাত: নারীসহ নিহত ২ ও আশঙ্কাজনক ২ ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য -মির্জা ফখরুল সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাঁধ চাই: ব্রহ্মপুত্র পাড়ে চরের মানুষের তীব্র আকুতি ভূরুঙ্গামারীতে লাইসেন্সহীন হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আজ ৩ আগস্ট: আজকের দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ৩ আগস্ট ২০২৬; আজকের রাশিফল: কেমন কাটবে আপনার আজকের দিনটি

বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল

বারি টমেটো-৩

টমেটো ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি শীতকালীন সবজি। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা কালে চাষের উপযোগী বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ২৭৬.৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয় এবং মোট ফলন ৩৮৮৭.২৫ হাজার টন। এতে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। জাতের প্রকারভেদে টমেটোতে সাধারণত ৩০৫ আইইউ ভক্ষণযোগ্য বিটা ক্যারোটিন রয়েছে।

বারি টমেটো-৩’ নামে উদ্ভাবিত জাতটি ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়। গাছের উচ্চতা ১০০-১১০ সেমি। ফল মাংসল এবং কিছুটা চ্যাপ্টা আকৃতির। ফলের রং গাঢ় লাল। প্রতি ফলের ওজন ৮০-৯০ গ্রাম। প্রতিটি গাছে ৩০-৩২টি ফল ধরে। গাছপ্রতি ফলন ২-৩ কেজি। চারা লাগানোর ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে ফল পাকতে শুরু করে। প্রতি গাছ থেকে ৭-৮ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। এ জাতের গাছ ব্যাক্টেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধী। চারা রোপণের পর থেকে জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে ফলন হেক্টরপ্রতি ৮৫-৯০ টন হয়। বাংলাদেশের সব অঞ্চলে এই জাতটি চাষ করা যায়। জেনে নিন>>পেরিলা চাষ পদ্ধতি

মাটি: টমেটো এদেশে শীতকালীন ফসল। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা টমেটো গাছে রোগ বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। আবার উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফুল ঝরে পড়ে। রাত্রির তাপমাত্রা ২৩০ সে. এর নিচে থাকলে তা গাছে ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫০ সে. টমেটোর ভাল ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আলো-বাতাস যুক্ত ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত।



ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত। জেনে নিন>>টমেটোর রোগ,রোগের কারণ ও প্রতিকার

জমি তৈরি: টমেটোর ভাল ফলন অনেকাংশেই জমি তৈরির উপর নির্ভর করে। তাই ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। মাটির প্রকৃতি ও স্থানভেদে ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেমি উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া নালা করতে হবে যাতে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা হয়।

চারা রোপণ: চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন অথবা ৪-৬ পাতা বিশিষ্ট হলে জমিতে রোপণ করতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং সারির উপরে চারা থেকে চারা ৪০ সেমি দূরত্বে লাগাতে হবে। বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

 ফসল সারের প্রয়োগ: ( সার প্রয়োগ প্রতি শতাংশে)

শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর/কম্পোস্ট, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, বরিক এসিড এবং অর্ধেক এমপি সার জমিতে ভালভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তেতে চারা লাগানোর ২৫ দিন ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার তিন কিস্তিতে চারা লাগানোর ১০, ২৫ ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। উপরি প্রয়োগকৃত ইউরিয়া এবং এমপি সার গাছের গোড়ায় ১০-১৫ সেমি দূরে মাটির সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে। টিএসপির পরিবরএত ডিএপি ব্যবহার করলে ইউরিয়া সার ২০ শতাংশ কম প্রয়োগ করতে হবে।

কম ঊর্বরা শক্তি জমির জন্য:  ইউরিয়া : ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.৩৬ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.৩৬ কেজি; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.৩৬ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময় ০.৯১ কেজি

এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১৭ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১৭ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১৭ কেজি

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি

জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৫৪ কেজি

১৮ জিংক সালফেট জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি

গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৬০ কেজি

মধ্যম শক্তি জমির জন্য : শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৬১ কেজি

এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১১ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১১ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১১ কেজি

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি

জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৩৬ কেজি

জিংক সালফেট :জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি

গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৪০ কেজি

বেশি শক্তি জমির জন্য: শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৩০ কেজি

এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.০৬ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.০৬ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.০৬ কেজি

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় –

জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.১৮ কেজি

জিংক সালফেট: জমি তৈরির সময় –

গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ২০ কেজি।



পরবর্তী পরিচর্যা :
সেচ ও নিষ্কাশন: চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরবর্তীতে প্রতি কি¯িত সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিত চওড়া (৩০-৪০ সেমি) এবং এক দিকে মৃদু ঢালু হওয়া বাঞ্চণীয়।

আগাছা দমন: টমেটোর জমিকে প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিয়ে আগছামুক্ত রাখতে হবে।

সার উপরি প্রয়োগ: সময়মতো বর্ণিত মাত্রায় প্রয়োজনীয় সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা: ১ম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্ব কুশি ছাঁটাই করতে হবে। গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

ফসল তোলা (পরিপক্কতা সনাক্তকরণ): ফলের ঠিক নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই ফল সংগ্রহ করতে হবে বাজার জাতকরণের জন্য। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

জেনে নিন>>বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল

জেনে নিন>> বারি টমেটো-২ (রতন) চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> বারি টমেটো-১ (মানিক) চাষ পদ্ধতি

 

Please Share This Post in Your Social Media

2 responses to “বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল”

  1. […] জেনে নিন>> বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল […]

  2. […] জেনে নিন>> বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!