ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০৭:২১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণা গ্রহণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। জোটটি প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে আয়োজিত সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
নয়াদিল্লি ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জোটটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে ভারত ও ব্রাজিলের বর্ধিত ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেছে এবং নিরাপত্তা পরিষদে দেশ দুটির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পড়ুন>>২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণাটিতে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জোটটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
ঘোষণায় একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ব্রিকস নেতাদের মতে, পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের অজুহাতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণ এবং নির্বিচারে শুল্ক বাড়ানো ডব্লিউটিওর নিয়মের পরিপন্থী, যা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। এই ধরনের বাণিজ্যবাধা মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে জোটটি। এছাড়া ‘একতরফা যুদ্ধ কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পুরোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। তিনি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নিয়ম তৈরিতে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পড়ুন>> পাবনায় আব্দুল বারেক মৃত্যুর ঘটনা মামলার পলাতক দম্পতি আটক
সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিকস তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে, যেখানে ২৬ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছিলেন। জোটটি স্পষ্ট করেছে যে, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতি বা সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসীদের চলাচল, অর্থায়ন এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূলে সদস্য দেশগুলো একযোগে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নয়াদিল্লি ঘোষণা ব্রিকসের সম্মিলিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর ওপর বর্তায়। প্রতিষ্ঠাকালীন গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত হওয়া এই জোট বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব ও দায়বদ্ধতা আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
























