বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ১৫ আগস্ট ঘিরে বড় ধরনের কোনো নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, ১৫ আগস্ট একটি সংবেদনশীল দিন এবং এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময়ই সতর্ক থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের সব ইউনিটেরই আলাদা প্রস্তুতি আছে এবং আমরা এলার্ট থাকব। বড় ধরনের কোনো আতঙ্কের কারণ না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ইউনিটকে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এরকম একটার পর একটা ইভেন্ট আসতেই থাকে, আমরা ফেস করছি। যেকোনো ধরনের নাশকতা যেন কেউ ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যেই এই নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নাশকতা হতে পারে এমন কোনো তথ্য নেই, তবুও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে এবং জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো অপতৎপরতা আমরা চালাতে দেব না। এই অভিযানে প্রায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকও রয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা মাঠে আছি।
র্যাব জানিয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপর ররতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে না দেওয়া। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাবসহ সব বাহিনী একযোগে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
যু// র
Leave a Reply