প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধে ২৩ দফা নির্দেশনা সরকারের
- আপডেট সময় : ১১:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলার অভাব দূর করা, দুর্নীতি রোধ এবং কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ২৩ দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে ৬১ জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনাগুলো চূড়ান্ত করা হয়। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম সমন্বিত প্রশাসনিক নির্দেশনা, যা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি চালান অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল।
নতুন এই নির্দেশনার অন্যতম প্রধান দিক হলো সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা। আইসিটি বিভাগ এই উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে। এছাড়া, সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি বা নিয়োগের সুবিধার্থে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদবির করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কেউ এমন চেষ্টা করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিতে যুক্ত করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাজ্যে বিমানঘাঁটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার ৫ জন জামিনে মুক্ত, বিস্মিত ট্রাম্প।
দুর্নীতি দমনে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, একই কর্মকর্তা যাতে বিভিন্ন দপ্তরের নামে বারবার বিদেশ ভ্রমণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে সচিবদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠানোর আগে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পিপিপিআর ২০২৫-এর তফসিল-৭ অনুসরণ করে সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে প্রস্তাব জমা দিতে হবে।
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সব মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তকরণ এবং দীর্ঘদিনের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পেশাগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে ক্যাডার পদগুলোর সঠিক হিসাব রাখা এবং প্রতি তিন মাস অন্তর দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনি বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মামলা-মোকদ্দমার পরিবর্তে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ৪০ শতাংশ পদ শূন্য / স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগে সরকারের উদ্যোগ। ঢাকায় মনোরেল চালুর পথে সরকারের প্রথম উদ্যোগ।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ভবনগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি দুই মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখা এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে প্রতি ১৫ দিন অন্তর সচিবালয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেবা প্রদানকে হয়রানিমুক্ত করা এবং খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে এই নির্দেশনায়। তাহলে ছয় বা সাত মাস পর এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা যেত।’।
নির্দেশনাগুলো নিয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও লেখক ফিরোজ মিয়া বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কাজের গতি প্রত্যাশিত নয়। দেরিতে হলেও এই নির্দেশনাগুলোকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে যথাযথ তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা জরুরি। না হলে অতীতের মতো এগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিবও একই শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ওপর মহলের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত তদারকিই এখন সময়ের দাবি। বর্তমান সরকারের অধীনে এসব নির্দেশনা কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব গতকাল বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া নির্দেশনাগুলো কাগজে-কলমে সব সময়ই ভালো শোনায়। আসল বিষয় হলো সেগুলো বাস্তবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, আর না হলে কেন হচ্ছে না—সেই তদারকিটা খুব জরুরি।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























