ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ লন্ডনে উদ্বোধন হলো প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর স্থায়ী ঠিকানা ‘চাটগাঁ হাউস’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ছিটকে গেলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৩৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেড সংস্কারে ৯ মাসেও নেই অগ্রগতি

সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেড সংস্কারে ৯ মাসেও নেই অগ্রগতি

হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনো সারেনি। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্গো ওয়্যারহাউজ পুড়ে যাওয়ার পর ৯ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন ওয়্যারহাউজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।

 

ফলে স্থায়ী আমদানি কার্গো শেড চালু করা সম্ভব হয়নি। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা শত শত টন আমদানি পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আধুনিক ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, বারকোড বা আরএফআইডি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য সংরক্ষণ ও ডেলিভারিতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদাম সংকট ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে শতকোটি টাকার পণ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও দেশের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পড়ুন>>ভোটার তালিকা সংশোধনে ১৫৪ কর্মকর্তা নিয়োগ দিল নির্বাচন কমিশন

বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট অবতরণ করে, যার মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের পাশাপাশি ৫ থেকে ৮টি চার্টার কার্গো ফ্লাইট রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইটে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টন কার্গো আসে, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন পণ্য নোটিশ অব অ্যারাইভালের অপেক্ষায় জমে থাকে। এরপর পণ্য বুঝে নিয়ে কুরিয়ার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানিকারকের কাছে পৌঁছাতে আরও ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। কার্গো ভিলেজের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত পণ্য জমে থাকায় নির্দিষ্ট চালান খুঁজে বের করতেই দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল কবির ভূঁইয়া মিঠু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেডটি সংস্কারে ৯ মাসের দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ বড় ধরনের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও তা দেখার যেন কেউ নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট সমাধান করা কঠিন বলে তিনি মনে করেন।

পড়ুন>>তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যের মতে, অগ্নিকাণ্ডের পর সিভিল এভিয়েশন যেটুকু সংস্কার করেছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল, যেখানে মাত্র ১০০ টন পণ্য রাখা সম্ভব, অথচ প্রতিদিন ৬০০ টন কার্গো আসে।

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, অনেক আমদানিকারক সময়মতো পণ্য খালাস না করায় কার্গো এলাকায় চাপ বাড়ছে।

 

 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণেই জায়গা সংকট হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেড সংস্কারে ৯ মাসেও নেই অগ্রগতি

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেড সংস্কারে ৯ মাসেও নেই অগ্রগতি

হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনো সারেনি। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্গো ওয়্যারহাউজ পুড়ে যাওয়ার পর ৯ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন ওয়্যারহাউজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।

 

ফলে স্থায়ী আমদানি কার্গো শেড চালু করা সম্ভব হয়নি। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা শত শত টন আমদানি পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আধুনিক ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, বারকোড বা আরএফআইডি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য সংরক্ষণ ও ডেলিভারিতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদাম সংকট ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে শতকোটি টাকার পণ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও দেশের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পড়ুন>>ভোটার তালিকা সংশোধনে ১৫৪ কর্মকর্তা নিয়োগ দিল নির্বাচন কমিশন

বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট অবতরণ করে, যার মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের পাশাপাশি ৫ থেকে ৮টি চার্টার কার্গো ফ্লাইট রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইটে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টন কার্গো আসে, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন পণ্য নোটিশ অব অ্যারাইভালের অপেক্ষায় জমে থাকে। এরপর পণ্য বুঝে নিয়ে কুরিয়ার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানিকারকের কাছে পৌঁছাতে আরও ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। কার্গো ভিলেজের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত পণ্য জমে থাকায় নির্দিষ্ট চালান খুঁজে বের করতেই দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল কবির ভূঁইয়া মিঠু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেডটি সংস্কারে ৯ মাসের দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ বড় ধরনের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও তা দেখার যেন কেউ নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট সমাধান করা কঠিন বলে তিনি মনে করেন।

পড়ুন>>তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যের মতে, অগ্নিকাণ্ডের পর সিভিল এভিয়েশন যেটুকু সংস্কার করেছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল, যেখানে মাত্র ১০০ টন পণ্য রাখা সম্ভব, অথচ প্রতিদিন ৬০০ টন কার্গো আসে।

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, অনেক আমদানিকারক সময়মতো পণ্য খালাস না করায় কার্গো এলাকায় চাপ বাড়ছে।

 

 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণেই জায়গা সংকট হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

 

Facebook Comments Box