ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে খুব শিগগিরই হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন বা পাহাড়। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই স্থাপনার মাটির অনেক গভীরে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে, যেখানে ইরান তার পারমাণবিক সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি নতুন কোনো স্থানে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে খুব শিগগিরই হামলা চালাবে। তিনি আরও বলেন, ইরান যেখানেই পারমাণবিক কর্মসূচির কথা ভাববে, সেখানেই যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী হামলা চালাবে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে দুর্বল করছে যা আগে কেউ সম্ভব বলে ভাবেনি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান জর্ডানে একটি হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাগুলো এত গভীরে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন। এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের হুমকির বিষয়েও ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র তার মোকাবিলা করবে। এর আগেও আমরা হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেক দিন ধরে তাদের কাছ থেকে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে আমাদের কাজ করতে হবে।
এরই মধ্যে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার দিবাগত রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের বুশেহর শহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ওই স্থাপনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়। এদিকে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
তেহরানের উত্তর-পশ্চিমসহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর আকাশে মাইক্রো ড্রোন বা সম্ভাব্য শত্রু হুমকি শনাক্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তেহরানে কোনো হামলা বা হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজে একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। এছাড়া হামাদান প্রদেশের কাবুদারাহাঙ্গ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী কোনারাক ও চাবাহারেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরাকের ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহর ও এর আকাশসীমাকে লক্ষ্য করে হামলার কারণে সব ধরনের আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে আবারও বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের আকাশে একটি একমুখী হামলাকারী বা কামিকাজে ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
























