ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমঝোতার মাধ্যমেই সব চ্যালেঞ্জ কাটানো সম্ভব: অর্থমন্ত্রী নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদে ডুবে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ইসির দিল্লিতে প্রতিবাদের ভেন্যু হিসেবে যন্তর মন্তর বাতিল করল পুলিশ উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর পরিকল্পনা ছাড়াই কি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ? দুর্গাপূজা নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুতি সংকট নিয়ে ইরানের আলোচনা নীলফামারী হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মহানবী (সা.)-এর শেখানো ৪টি কৌশল

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মহানবী (সা.)-এর শেখানো ৪টি কৌশল

 

 

দাম্পত্য জীবনের সূচনা সহজ হলেও একে বছরের পর বছর সুন্দর রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, আন্তরিকতা, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব থাকলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা কখনো বিচ্ছেদের দিকেও ধাবিত হয়। তবে প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের চর্চা ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে গভীর করতে পারে।

 

 

স্ত্রীর কোনো ভুল হলে অপমান না করে বরং ভালোবাসা দিয়ে তা সংশোধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাকে অনুভব করাতে হবে যে, পৃথিবীতে আপনিই তার সবচেয়ে আপন মানুষ। একইভাবে পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবারের ব্যবস্থা করাও যত্নের অংশ। সব সময় সম্ভব না হলেও মাঝেমধ্যে বিশেষ আয়োজন করা উচিত এবং এখানে কার্পণ্য না করাই ভালো। সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ভাষ্যমতে, স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকা এবং স্ত্রী যেভাবে দেখতে পছন্দ করেন সেভাবে থাকা সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর জন্য এমনই পরিপাটি থাকতে পছন্দ করি, যেমন আমি তার কাছ থেকে সাজগোজ পছন্দ করি।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস: ১৯২৬৩)। পরিবারের পেছনে ব্যয় করাকে ইসলাম সদকা হিসেবে গণ্য করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)।

 

পড়ুন>> রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন জোট শরিক নেতারা

 

 

 

ঘরের কাজে সহযোগিতা এবং স্ত্রীর ছোট ছোট কাজের প্রশংসা করা সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি প্রায়ই খাদিজা (রা.)-এর প্রশংসা করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৯)। এমনকি খাদিজার মৃত্যুর পরও নতুন স্ত্রীর সামনেই নবীজি (সা.) তাঁর প্রশংসা করতেন। দাম্পত্য কলহ হলে গায়ের হাত তোলা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কেউ যেন নিজের স্ত্রীকে দাসের মতো প্রহার না করো। দিনের শেষে তো তার সঙ্গেই মিলিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২০৪)। এছাড়া খারাপ নামে ডাকা, অশালীন ভাষা ব্যবহার, স্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে কটূক্তি করা বা যৌতুকের দাবি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

 

 

স্ত্রীকে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা করা অসম্মানজনক। বরং তাকে অনুভব করাতে হবে যে তিনি অনন্য। ভুলগুলো সবার সামনে প্রকাশ না করে আড়ালে সংশোধনের চেষ্টা করা এবং ক্ষমা করতে শেখা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। নবীজি (সা.)-এর জীবনে স্ত্রীর সঙ্গে খেলাধুলা ও সময় কাটানোর নজির রয়েছে। আয়শা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে হালকা ও রসিকতাপূর্ণ সময় কাটানো অপচয় নয়, বরং অর্থবহ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যা নিয়ে খেলাধুলা করে, তার সবই অনর্থক, তিনটি বিষয় ছাড়া—তিরন্দাজি, ঘোড়া প্রশিক্ষণ আর স্ত্রীর সঙ্গে খেলা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৭)।

 

 

সর্বোপরি, রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৃত শক্তির পরিচয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং শক্তিশালী সে-ই, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমেই একটি সুখী ও সুন্দর সংসার গড়ে ওঠে। সুন্দর সংসার হঠাৎ তৈরি হয় না, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ, ত্যাগ ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে।

পড়ুন>>শরিক নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়

 

তিনি হেসে বললেন, ‘এটা সেই আগের হারের বদলা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮)এই ছোট্ট ঘটনাই বলে দেয়, স্ত্রীর সঙ্গে হালকা, রসিকতাপূর্ণ সময় কাটানো নবীজির নিজস্ব অভ্যাসের অংশ ছিল।এ বিষয়ে নবীজি (সা.) একটা সাধারণ নীতিও বলে দিয়েছে, মানুষের অধিকাংশ বিনোদনমূলক কাজই অর্থহীন, তবে কয়েকটি ব্যতিক্রম আছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মহানবী (সা.)-এর শেখানো ৪টি কৌশল

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

 

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মহানবী (সা.)-এর শেখানো ৪টি কৌশল

 

 

দাম্পত্য জীবনের সূচনা সহজ হলেও একে বছরের পর বছর সুন্দর রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, আন্তরিকতা, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব থাকলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা কখনো বিচ্ছেদের দিকেও ধাবিত হয়। তবে প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের চর্চা ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে গভীর করতে পারে।

 

 

স্ত্রীর কোনো ভুল হলে অপমান না করে বরং ভালোবাসা দিয়ে তা সংশোধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাকে অনুভব করাতে হবে যে, পৃথিবীতে আপনিই তার সবচেয়ে আপন মানুষ। একইভাবে পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবারের ব্যবস্থা করাও যত্নের অংশ। সব সময় সম্ভব না হলেও মাঝেমধ্যে বিশেষ আয়োজন করা উচিত এবং এখানে কার্পণ্য না করাই ভালো। সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ভাষ্যমতে, স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকা এবং স্ত্রী যেভাবে দেখতে পছন্দ করেন সেভাবে থাকা সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর জন্য এমনই পরিপাটি থাকতে পছন্দ করি, যেমন আমি তার কাছ থেকে সাজগোজ পছন্দ করি।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস: ১৯২৬৩)। পরিবারের পেছনে ব্যয় করাকে ইসলাম সদকা হিসেবে গণ্য করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)।

 

পড়ুন>> রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন জোট শরিক নেতারা

 

 

 

ঘরের কাজে সহযোগিতা এবং স্ত্রীর ছোট ছোট কাজের প্রশংসা করা সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি প্রায়ই খাদিজা (রা.)-এর প্রশংসা করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৯)। এমনকি খাদিজার মৃত্যুর পরও নতুন স্ত্রীর সামনেই নবীজি (সা.) তাঁর প্রশংসা করতেন। দাম্পত্য কলহ হলে গায়ের হাত তোলা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কেউ যেন নিজের স্ত্রীকে দাসের মতো প্রহার না করো। দিনের শেষে তো তার সঙ্গেই মিলিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২০৪)। এছাড়া খারাপ নামে ডাকা, অশালীন ভাষা ব্যবহার, স্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে কটূক্তি করা বা যৌতুকের দাবি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

 

 

স্ত্রীকে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা করা অসম্মানজনক। বরং তাকে অনুভব করাতে হবে যে তিনি অনন্য। ভুলগুলো সবার সামনে প্রকাশ না করে আড়ালে সংশোধনের চেষ্টা করা এবং ক্ষমা করতে শেখা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। নবীজি (সা.)-এর জীবনে স্ত্রীর সঙ্গে খেলাধুলা ও সময় কাটানোর নজির রয়েছে। আয়শা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে হালকা ও রসিকতাপূর্ণ সময় কাটানো অপচয় নয়, বরং অর্থবহ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যা নিয়ে খেলাধুলা করে, তার সবই অনর্থক, তিনটি বিষয় ছাড়া—তিরন্দাজি, ঘোড়া প্রশিক্ষণ আর স্ত্রীর সঙ্গে খেলা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৭)।

 

 

সর্বোপরি, রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৃত শক্তির পরিচয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং শক্তিশালী সে-ই, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমেই একটি সুখী ও সুন্দর সংসার গড়ে ওঠে। সুন্দর সংসার হঠাৎ তৈরি হয় না, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ, ত্যাগ ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে।

পড়ুন>>শরিক নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়

 

তিনি হেসে বললেন, ‘এটা সেই আগের হারের বদলা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮)এই ছোট্ট ঘটনাই বলে দেয়, স্ত্রীর সঙ্গে হালকা, রসিকতাপূর্ণ সময় কাটানো নবীজির নিজস্ব অভ্যাসের অংশ ছিল।এ বিষয়ে নবীজি (সা.) একটা সাধারণ নীতিও বলে দিয়েছে, মানুষের অধিকাংশ বিনোদনমূলক কাজই অর্থহীন, তবে কয়েকটি ব্যতিক্রম আছে।

 

 

Facebook Comments Box