ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এ ৫৫ কর্মী নিয়োগ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন: ভাঙনের শঙ্কায় নদের তীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১৯৮২ বার পড়া হয়েছে

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন:
ভাঙনের শঙ্কায় নদের তীর

 

 

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন
ভাঙনের শঙ্কায় দুধকুমার নদের তীর, ঝুঁকিতে বসতি ও ফসলি জমি।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশেই ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে সেতুর খুব কাছ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে।

 

 

এতে একদিকে নির্মাণাধীন সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী বসতভিটা, স্থাপনা ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

পড়ুন>> পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে জামালগঞ্জে আটক ১

 

 

জানা যায়, সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছর আগে নির্মিত একটি রেলসেতু রয়েছে। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তার দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

 

 

 

২০১৯ সালে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হলেও এখনো কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর অদূরেই দুধকুমার নদের তীররক্ষা বাঁধের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পড়ুন>> রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

 

 

স্থানীয়দের মতে, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি চক্র নদীর তীরঘেঁষা এলাকায় অন্তত দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, রেললাইন কিংবা আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

 

 

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন চলতে পারছে।

আরও পড়ুন>> রাণীশংকৈলে পিআইও কার্যালয়ে হামলা

 

 

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কফিলুর রহমান, মাহবুব ও বাবু বলেন, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙন ঠেকাতে তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং সেখানে ব্লক ফেলা হয়েছে। কিন্তু ওই ব্লকের কাছেই এবং নদীর পূর্ব পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ব্লকগুলো সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

তাদের মতে, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে শুধু সেতু বা বাঁধই নয়—নদীতীরের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও ভুট্টা ক্ষেতও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

 

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রেজার মালিক মাসুদ রানা সম্প্রতি বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। সেতু ও বাঁধের এত কাছে বালু তোলায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

আরও পড়ুন>> তাড়াশে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

 

 

অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, সেতুর কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে বালু তোলার কথা বলা হয়েছে এবং সেই বালুই সংযোগ সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, সেতুর বালুর কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হলেও কাউকে সরাসরি নদী থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

 

 

এ বিষয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সেটি ৬২ রেকর্ডের জমি বলে জানা গেছে। তবে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি আর কিছু বলেননি।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হচ্ছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন: ভাঙনের শঙ্কায় নদের তীর

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

 

 

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন:
ভাঙনের শঙ্কায় নদের তীর

 

 

সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন
ভাঙনের শঙ্কায় দুধকুমার নদের তীর, ঝুঁকিতে বসতি ও ফসলি জমি।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশেই ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে সেতুর খুব কাছ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে।

 

 

এতে একদিকে নির্মাণাধীন সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী বসতভিটা, স্থাপনা ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

পড়ুন>> পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে জামালগঞ্জে আটক ১

 

 

জানা যায়, সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছর আগে নির্মিত একটি রেলসেতু রয়েছে। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তার দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

 

 

 

২০১৯ সালে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হলেও এখনো কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর অদূরেই দুধকুমার নদের তীররক্ষা বাঁধের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পড়ুন>> রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

 

 

স্থানীয়দের মতে, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি চক্র নদীর তীরঘেঁষা এলাকায় অন্তত দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, রেললাইন কিংবা আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

 

 

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন চলতে পারছে।

আরও পড়ুন>> রাণীশংকৈলে পিআইও কার্যালয়ে হামলা

 

 

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কফিলুর রহমান, মাহবুব ও বাবু বলেন, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙন ঠেকাতে তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং সেখানে ব্লক ফেলা হয়েছে। কিন্তু ওই ব্লকের কাছেই এবং নদীর পূর্ব পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ব্লকগুলো সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

তাদের মতে, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে শুধু সেতু বা বাঁধই নয়—নদীতীরের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও ভুট্টা ক্ষেতও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

 

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রেজার মালিক মাসুদ রানা সম্প্রতি বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। সেতু ও বাঁধের এত কাছে বালু তোলায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

আরও পড়ুন>> তাড়াশে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

 

 

অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, সেতুর কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে বালু তোলার কথা বলা হয়েছে এবং সেই বালুই সংযোগ সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, সেতুর বালুর কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হলেও কাউকে সরাসরি নদী থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

 

 

এ বিষয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সেটি ৬২ রেকর্ডের জমি বলে জানা গেছে। তবে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি আর কিছু বলেননি।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হচ্ছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box