গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে স্বৈরাচারী হতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ৪১০০ বার পড়া হয়েছে
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে স্বৈরাচারী হতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে স্বৈরাচারী হতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমবে, সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হয়ে যাবে। পারবেনা ইচ্ছে মত সংবিধান সংশোধন।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ গণভোটে পাস হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যের সংখ্যা কিছু ক্ষেত্রে সমান হবে; কিছু ক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রাধান্য থাকবে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ সদস্যের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। এর ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা থাকবে না।
এ ছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংসদ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদের উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে। সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন করতে হলে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে। সংসদ নির্বাচনে কোনো দল ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট না পেলে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে ক্ষমতাসীন দলের জন্য সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি যে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছেন, তাতে এসব বিধান রয়েছে। আদেশের মর্যাদা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিদ্যমান সংবিধানে আদেশ জারির বিধান নেই। তবে সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে এমন অধ্যাদেশ জারি করা যাবে না, যা সংবিধানকে পরিবর্তন করে।
অধ্যাদেশ আইনের সমতুল্য, যা অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে পাস করাতে হয়। এই সময়ের মধ্যে উত্থাপন না করলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
সরকার নির্বাহী ক্ষমতায় প্রজ্ঞাপন, বিধিমালা, নীতিমালা ও প্রবিধান জারি করতে পারে। এগুলোর মর্যাদা আইনের চেয়ে কম। গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সই করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের সমতু্ল্য আদেশ জারির সুপারিশ করেছিল। সুপারিশ অনুযায়ী এ আদেশের ওপর গণভোট হবে।
১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেছিলেন। ১৯৭৫ থেকে পরবর্তী দুই বছরে, সামরিক শাসনের সময়ে ১০ বার আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এসব আদেশের মাধ্যমে সংবিধানে পরিবখর্তন আনা হয়েছিল। ১৯৮২ থেকে পরবর্তী চার বছরে সামরিক শাসনের সময়ে আদেশ জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা। সামরিক শাসনে সংবিধান পুরোপুরি বাতিল না হলেও, কিছু অংশ স্থগিত ছিল।
বিদ্যমান সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান নেই। তার পরও গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তা গঠিত হয়েছে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ে গণভোটের জন্য সরকারের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেছেন বলে বৃহস্পতিবারের আদেশে বলা হয়েছে। যেসব ধারা অবিলম্বে তথা আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বাদে রাষ্ট্রপতিকে সব কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। ফলে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীই থাকেন সর্বেসর্বা। প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমাতে অনেক দিন ধরে আলোচনা ছিল।
অভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোও এ বিষয়ে সুপারিশ করে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার কারণেই স্বৈরশাসনের উদ্ভব হয়। বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে হবে।
গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর করেছে। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপি সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগে সাংবিধানিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে। যদিও সাংবিধানিক কমিটির নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে একমত হয়েছে বিএনপি।
বিদ্যমান আইনে সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য চার কমিশনার নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ব্যক্তিরাই নিয়োগ পান নির্বাচন কমিশনে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের এক বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে তাদেরই নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান।
পিএসসি ও সিএজিতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দুদকের নিয়োগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে হলেও তা প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রিত। সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান থাকলেও এ পদে কখনও নিয়োগ হয়নি। ফলে সরকারের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতাসম্পন্ন পদটি অকার্যকর।
জুলাই সনদ অনুযায়ী পিএসসি, সিএজি, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে। দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে অনুরূপ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ-সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি ন্যায়পাল ও দুদকের নিয়োগে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পিএসসি এবং সিএজির নিয়োগে বিদ্যমান ব্যবস্থা তথা প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়।
বিএনপি বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হলে তা নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারকে দুর্বল করবে। জামায়াত, এনসিপিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এসব সংস্কার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।
তবে সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গণভোটে থাকছে না নোট অব ডিসেন্ট। আদেশে বলা হয়েছে, চার বিষয় নিয়ে একটি প্রশ্নে হবে গণভোট। প্রথম বিষয় হলো, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তথ্য সুত্র
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























