ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও নিজেকে আইনজীবী দাবি ট্রাম্পের প্রেস অপতথ্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান বিমানমন্ত্রীর জেরুজালেমে দূতাবাস: কলম্বিয়ার সিদ্ধান্তে কাতারের তীব্র নিন্দা ১৮ বছর পর ফের একসঙ্গে অপু বিশ্বাস ও আদনান ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা থাকবে নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্নীতি ও অসংগতি দূর করতে তরুণদের নেতৃত্বের আহ্বান ডেপুটি কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনে দৈনিক কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন সীমান্ত থেকে পুলিশ আটকের ঘটনায় গোলাম পরওয়ারের নিন্দা সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি

বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও নিজেকে আইনজীবী দাবি ট্রাম্পের প্রেস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়ে এক তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০১১ সালে বার পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে ‘আইনজীবী’ ও ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে। পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির কারুসো স্কুল অব ল থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর থেকে তিনি কীভাবে নিজের পেশাগত যোগ্যতা প্রকাশ করে আসছেন, তা নিয়ে এখন নীতিগত প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ট্রুথ সোশ্যালে জাকারাইয়া একাধিক পোস্ট শেয়ার করেন। ফক্স নিউজ ও ওয়ান আমেরিকা নিউজের তৈরি এসব পোস্টে তাঁকে সরাসরি ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছিল। সিএনএনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জাকারাইয়া এই পরিচয় সম্বলিত কনটেন্ট বারবার প্রচার করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে এসব পোস্টের অন্তত একটি মুছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং খ্রিষ্টধর্মীয় পডকাস্টের লিখিত প্রতিলিপিতেও তাঁকে নিজেকে বারবার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা গেছে।

জাকারাইয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১১ সালে তিনি প্রথমবার বার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাকারাইয়া নিজেও এই তথ্য স্বীকার করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রথম দফায় পাসের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আর দ্বিতীয়বার সেই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বার নিশ্চিত করেছে যে জাকারাইয়াকে সেখানে কখনোই আইনি অনুশীলনের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে অ্যাটর্নি দাবি করা বা আইন পেশার ভান করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে নিজের এই পেশাগত পরিচয় ব্যবহারের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন কেটি জাকারাইয়া। নিউইয়র্ক টাইমস ও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে নিজের পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্টসহ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরমর্শ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পেশাদারদের কাছ থেকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে তাঁর যেহেতু জুরিস ডক্টর (জেডি) ডিগ্রি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনে অভিজ্ঞতা আছে, তাই তিনি নিজেকে ‘আইনজীবী’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন। তবে তাঁকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যে ‘অ্যাটর্নি’ বা ‘এসকোয়ার’ পদবি ব্যবহার করা যাবে না, যা কেবল লাইসেন্সধারী পেশাজীবীদের জন্যই সংরক্ষিত।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কিত পদবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাকারাইয়া জানান, সেগুলো মূলত অন্যের তৈরি করা কনটেন্টের রিটুইট ছিল। তিনি নিজের পরিচয় হিসেবে এই দাবিগুলোকে সরাসরি প্রতিষ্ঠা করতে চাননি বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তিনি জানান, ওই পদবিগুলোর প্রচার তাঁর নিজস্ব কোনো পরিকল্পিত উপস্থাপনা ছিল না, বরং গণমাধ্যম তাঁকে যে পরিচয়ে উপস্থাপন করেছিল, তিনি তা কেবল পুনর্প্রচার বা শেয়ার করেছিলেন।

আইনি পেশায় লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বেইজিংয়ে জাকারাইয়ার কাজের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, আইন স্কুলের পড়ালেখা শেষ করে তিনি চীনে চলে যান এবং সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আইনি খাতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে চীনের আইন অনুসারে বিদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় বার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না, যার ফলে সেখানে তাঁদের লাইসেন্সধারী আইনজীবী বা আদালতে মামলার পক্ষে দাঁড়ানোর আইনগত ভিত্তি থাকে না। এই বিষয়ে জাকারাইয়ার বক্তব্য হলো, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চীনে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বার পরীক্ষার ফল আর তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি এবং তিনি নিজেকে প্রস্তুত দাবি করে বলেন, ‘ওই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা আমার ছিল।’ এটাকে এমন কিছু বলেও মনে করিনি, যার দিকে আমার মনোযোগ দেওয়া দরকার।’।

অক্টোবরের শুরুর দিকে ‘দ্য গ্রেগ কেলি শো’-তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিচারালয়ের সরকারি অ্যাটর্নি মনোনয়ন অনুমোদন নিয়ে আলোচনাকালে জাকারাইয়া প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি একজন আইনজীবী।’ সম্প্রতি অনুসন্ধানী নিউজলেটার ‘পপুলার ইনফরমেশন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি আদৌ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুরো বিষয়টি আবার ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসে। এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাকারাইয়ার কাছে জানতে চান, তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষা পাস করেছিলেন? তখন উত্তর হিসেবে জাকারাইয়া কেবল বলেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই।’

প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তরের পর বিতর্ক আরও জোরালো হলে পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে জাকারাইয়া তাঁর জবাবের সাফাই দেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট যখন প্রশ্ন করছিলেন, তখন মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দের কারণে তিনি মূল প্রশ্নটি ঠিকমতো শুনতে পাননি। তিনি ভেবেছিলেন ট্রাম্প তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, ‘আইন স্কুল শেষ করে আপনি কোথায় ছিলেন?’ জাকারাইয়া বলেন, এই ভুলের কারণেই তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেছিলেন, পরীক্ষার কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম বলেননি।

কেটি জাকারাইয়ার পেশাগত পরিচয় বিভ্রান্তি এবং সম্ভাব্য বেআইনি দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াচডগ সংস্থা ‘ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বার কর্তৃপক্ষের কাছে জাকারাইয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকরভাবে আইনি যোগ্যতা উপস্থাপন করে ক্যালিফোর্নিয়ার বার আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

আইনি পেশাগত বিতর্কের মাঝেই নতুন প্রেস সেক্রেটারির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জাকারাইয়ার সমর্থনে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং যোগ্য একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মার্কিন জনগণের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণকর কাজ তুলে ধরতে জাকারাইয়া ‘বিশেষভাবে যোগ্য’ বলে মন্তব্য করে প্রশাসন তাঁর ওপর আস্থা বজায় রেখেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও নিজেকে আইনজীবী দাবি ট্রাম্পের প্রেস

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়ে এক তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০১১ সালে বার পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে ‘আইনজীবী’ ও ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে। পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির কারুসো স্কুল অব ল থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর থেকে তিনি কীভাবে নিজের পেশাগত যোগ্যতা প্রকাশ করে আসছেন, তা নিয়ে এখন নীতিগত প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ট্রুথ সোশ্যালে জাকারাইয়া একাধিক পোস্ট শেয়ার করেন। ফক্স নিউজ ও ওয়ান আমেরিকা নিউজের তৈরি এসব পোস্টে তাঁকে সরাসরি ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছিল। সিএনএনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জাকারাইয়া এই পরিচয় সম্বলিত কনটেন্ট বারবার প্রচার করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে এসব পোস্টের অন্তত একটি মুছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং খ্রিষ্টধর্মীয় পডকাস্টের লিখিত প্রতিলিপিতেও তাঁকে নিজেকে বারবার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা গেছে।

জাকারাইয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১১ সালে তিনি প্রথমবার বার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাকারাইয়া নিজেও এই তথ্য স্বীকার করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রথম দফায় পাসের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আর দ্বিতীয়বার সেই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বার নিশ্চিত করেছে যে জাকারাইয়াকে সেখানে কখনোই আইনি অনুশীলনের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে অ্যাটর্নি দাবি করা বা আইন পেশার ভান করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে নিজের এই পেশাগত পরিচয় ব্যবহারের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন কেটি জাকারাইয়া। নিউইয়র্ক টাইমস ও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে নিজের পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্টসহ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরমর্শ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পেশাদারদের কাছ থেকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে তাঁর যেহেতু জুরিস ডক্টর (জেডি) ডিগ্রি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনে অভিজ্ঞতা আছে, তাই তিনি নিজেকে ‘আইনজীবী’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন। তবে তাঁকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যে ‘অ্যাটর্নি’ বা ‘এসকোয়ার’ পদবি ব্যবহার করা যাবে না, যা কেবল লাইসেন্সধারী পেশাজীবীদের জন্যই সংরক্ষিত।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কিত পদবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাকারাইয়া জানান, সেগুলো মূলত অন্যের তৈরি করা কনটেন্টের রিটুইট ছিল। তিনি নিজের পরিচয় হিসেবে এই দাবিগুলোকে সরাসরি প্রতিষ্ঠা করতে চাননি বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তিনি জানান, ওই পদবিগুলোর প্রচার তাঁর নিজস্ব কোনো পরিকল্পিত উপস্থাপনা ছিল না, বরং গণমাধ্যম তাঁকে যে পরিচয়ে উপস্থাপন করেছিল, তিনি তা কেবল পুনর্প্রচার বা শেয়ার করেছিলেন।

আইনি পেশায় লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বেইজিংয়ে জাকারাইয়ার কাজের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, আইন স্কুলের পড়ালেখা শেষ করে তিনি চীনে চলে যান এবং সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আইনি খাতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে চীনের আইন অনুসারে বিদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় বার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না, যার ফলে সেখানে তাঁদের লাইসেন্সধারী আইনজীবী বা আদালতে মামলার পক্ষে দাঁড়ানোর আইনগত ভিত্তি থাকে না। এই বিষয়ে জাকারাইয়ার বক্তব্য হলো, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চীনে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বার পরীক্ষার ফল আর তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি এবং তিনি নিজেকে প্রস্তুত দাবি করে বলেন, ‘ওই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা আমার ছিল।’ এটাকে এমন কিছু বলেও মনে করিনি, যার দিকে আমার মনোযোগ দেওয়া দরকার।’।

অক্টোবরের শুরুর দিকে ‘দ্য গ্রেগ কেলি শো’-তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিচারালয়ের সরকারি অ্যাটর্নি মনোনয়ন অনুমোদন নিয়ে আলোচনাকালে জাকারাইয়া প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি একজন আইনজীবী।’ সম্প্রতি অনুসন্ধানী নিউজলেটার ‘পপুলার ইনফরমেশন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি আদৌ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুরো বিষয়টি আবার ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসে। এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাকারাইয়ার কাছে জানতে চান, তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষা পাস করেছিলেন? তখন উত্তর হিসেবে জাকারাইয়া কেবল বলেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই।’

প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তরের পর বিতর্ক আরও জোরালো হলে পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে জাকারাইয়া তাঁর জবাবের সাফাই দেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট যখন প্রশ্ন করছিলেন, তখন মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দের কারণে তিনি মূল প্রশ্নটি ঠিকমতো শুনতে পাননি। তিনি ভেবেছিলেন ট্রাম্প তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, ‘আইন স্কুল শেষ করে আপনি কোথায় ছিলেন?’ জাকারাইয়া বলেন, এই ভুলের কারণেই তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেছিলেন, পরীক্ষার কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম বলেননি।

কেটি জাকারাইয়ার পেশাগত পরিচয় বিভ্রান্তি এবং সম্ভাব্য বেআইনি দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াচডগ সংস্থা ‘ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বার কর্তৃপক্ষের কাছে জাকারাইয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকরভাবে আইনি যোগ্যতা উপস্থাপন করে ক্যালিফোর্নিয়ার বার আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

আইনি পেশাগত বিতর্কের মাঝেই নতুন প্রেস সেক্রেটারির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জাকারাইয়ার সমর্থনে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং যোগ্য একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মার্কিন জনগণের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণকর কাজ তুলে ধরতে জাকারাইয়া ‘বিশেষভাবে যোগ্য’ বলে মন্তব্য করে প্রশাসন তাঁর ওপর আস্থা বজায় রেখেছে।

Facebook Comments Box