ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে রৌমারীর একাধিক গ্রাম
- আপডেট সময় : ০২:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে রৌমারীর একাধিক গ্রাম
ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে রৌমারীর একাধিক গ্রাম
নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী ও সোনাপুর, স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয়দের
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী ও সোনাপুরসহ একাধিক গ্রাম। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙন এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে নামিয়ে আনে চরম দুর্ভোগ। এবছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সুখেরবাতি গ্রামের বাসিন্দা জিন্নাত আলী বলেন, “প্রতিটি নির্বাচনের আগে নেতারা এসে নদীভাঙনের ছবি তোলে, আশ্বাস দেয় বাঁধ হবে, ভাঙন ঠেকানো হবে। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর কেউ ফিরে তাকায় না। আমরা প্রতি বছর ভিটেমাটি হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করি। কতদিন আর পারা যায়?”
স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যেই বহু বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে, কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।
পড়ুন>>রূপগঞ্জে ছাত্রলীগনেতাকে ছাড়িয়ে নিতে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়কার সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এই এলাকায় বারবার এসেছিলেন। তারা বলেন, “তিনি বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ভোট নিয়েছেন, কিন্তু নদী রক্ষা বা বাঁধ নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ তিনি নেননি। বরং আমাদের সরলতা নিয়ে খেলেছেন।”
চরাঞ্চলের এই দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের দাবি- ব্রহ্মপুত্র নদীর এই ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীর পাড়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রৌমারীর ভাঙন প্রবণ এলাকাগুলোর মানুষের দাবি, সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করুক—এটাই তাদের একান্ত চাওয়া।


























