ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন শ্রীপুরে পিতাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে পলাতক তরুণ আটক ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ডাকসুতে জয়ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ: মিয়া গোলাম পরওয়ার পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কল্যাণপুর জঙ্গি অভিযান: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি পেছাল ট্রাম্প: আমার সমর্থন পাওয়ায় নেতানিয়াহু নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়েছেন ব্যালন ডি’অর না জিতলেও আত্মবিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল: আসবে আমার সময়ও

দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতার কন্যা আফরোজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কী পূরণ হবে! 

কাউনিয়া (রংপুর) আব্দুল কুদ্দুস বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতার কন্যা আফরোজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কী পূরণ হবে! 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতার কন্যা আফরোজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কী পূরণ হবে!

দরিদ্র ঘরে জন্ম আফরোজা আক্তার মাফি’র। নতুন বই কিনে পড়ালেখা করতে পারেনি সে। বন্ধুদের কাছে ধার করে নেওয়া বই দিয়ে সে লেখা পড়া করে এইচএসসি  পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা খাবার জুটতো না মাফির ভাগ্যে। ঈদে ছাড়া নতুন জামা উঠতো না তার গায়ে। দরিদ্রতা আর নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে কাউনিয়া মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ -৫ পেয়েছে।

উপজেলার তিস্তা নদীর পাড় ঘেঁষা পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতা (হকার) মোঃ আনোয়ার হোসেনের কন্যা সে। বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কোন জমি- জমা নেই তাদের। তার পিতা ঝড় বৃষ্টি প্রখর রোদ উপেক্ষা করে প্রতিদিন বাইসাইকেলে চড়ে মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করে হাট বাজারে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের সংসার।

তাছাড়াও বাকী দু’বোন সহ তার লেখা পড়ার খরচ জোগাতে হিমসিম খেতে হয় তার পিতাকে। মাফির পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন আগে আমি একাই ৪ শ’৫০টি পত্রিকা বিক্রি করতাম এখন সে জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করছি মাত্র ২ শ’ ১০ টি।

এখন পাঠক অনেক কমে গেছে। এখন সবাই অলনাইনে পত্রিকা পড়েন। তাই প্রিন্ট পত্রিকার কাটতি অনেক গেছে। তাই আমার রোজকারও  কমে গেছে অর্ধেকে।  আমার ৩ মেয়ে আমরা ২জন সহ আমাদের ৫ জনের সংসার।

মাফি জানায় পত্রিকা বিক্রেতা  বাবার সামান্য রোজকারের টাকায় কোন রকমে চলে তাদের সংসার। মাফি পড়ার খরচ জোগাতে অন্যের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পড়ালেখা খরচ চালাতে যোগান দিত। মাফির মা রাজিয়া সুলতানা জানান অনেক স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে তার মেয়ে ডাক্তার হবে।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরুণে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। ডাক্তারী পড়ার অর্থের যোগান হবে কি ভাবে? এত টাকা আমরা পাবো কোথায় কে এগিয়ে আসবে আমাদের মেয়ের স্বপ্ন পূরুণে।

এ চিন্তায় বিভোর মাফি’র পিতা-মাতা। মাফি’র পিতা মাতা মেয়ের স্বপ্ন পূরণে বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতার কন্যা আফরোজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কী পূরণ হবে! 

আপডেট সময় : ১১:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

 

দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতার কন্যা আফরোজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কী পূরণ হবে!

দরিদ্র ঘরে জন্ম আফরোজা আক্তার মাফি’র। নতুন বই কিনে পড়ালেখা করতে পারেনি সে। বন্ধুদের কাছে ধার করে নেওয়া বই দিয়ে সে লেখা পড়া করে এইচএসসি  পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা খাবার জুটতো না মাফির ভাগ্যে। ঈদে ছাড়া নতুন জামা উঠতো না তার গায়ে। দরিদ্রতা আর নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে কাউনিয়া মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ -৫ পেয়েছে।

উপজেলার তিস্তা নদীর পাড় ঘেঁষা পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র পত্রিকা বিক্রেতা (হকার) মোঃ আনোয়ার হোসেনের কন্যা সে। বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কোন জমি- জমা নেই তাদের। তার পিতা ঝড় বৃষ্টি প্রখর রোদ উপেক্ষা করে প্রতিদিন বাইসাইকেলে চড়ে মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করে হাট বাজারে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের সংসার।

তাছাড়াও বাকী দু’বোন সহ তার লেখা পড়ার খরচ জোগাতে হিমসিম খেতে হয় তার পিতাকে। মাফির পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন আগে আমি একাই ৪ শ’৫০টি পত্রিকা বিক্রি করতাম এখন সে জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করছি মাত্র ২ শ’ ১০ টি।

এখন পাঠক অনেক কমে গেছে। এখন সবাই অলনাইনে পত্রিকা পড়েন। তাই প্রিন্ট পত্রিকার কাটতি অনেক গেছে। তাই আমার রোজকারও  কমে গেছে অর্ধেকে।  আমার ৩ মেয়ে আমরা ২জন সহ আমাদের ৫ জনের সংসার।

মাফি জানায় পত্রিকা বিক্রেতা  বাবার সামান্য রোজকারের টাকায় কোন রকমে চলে তাদের সংসার। মাফি পড়ার খরচ জোগাতে অন্যের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পড়ালেখা খরচ চালাতে যোগান দিত। মাফির মা রাজিয়া সুলতানা জানান অনেক স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে তার মেয়ে ডাক্তার হবে।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরুণে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। ডাক্তারী পড়ার অর্থের যোগান হবে কি ভাবে? এত টাকা আমরা পাবো কোথায় কে এগিয়ে আসবে আমাদের মেয়ের স্বপ্ন পূরুণে।

এ চিন্তায় বিভোর মাফি’র পিতা-মাতা। মাফি’র পিতা মাতা মেয়ের স্বপ্ন পূরণে বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box