ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে উপত্যাকা নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই থেকে আজও চলতে থাকা এ তাণ্ডবে গাজায় ৪১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের এ হামলার বর্ষপূর্তিতে ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ক্যামেরুনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলেমন ইয়াং ।

রোববার (০৬ অক্টোবর) বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া নৃশংসতার এক বছর পূর্তি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্র ্যাচ্য মৃত্যু, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির সাক্ষী হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আবারও বলছি যে মানুষের দুর্ভোগের অবসান হওয়া উচিত এবং এটি এখনই শেষ হওয়া উচিত। আমাদের অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সমস্ত জিম্মির অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই অঞ্চলে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে সংলাপে ফিরে আসা দরকার।

তিনি বলেন, সামরিকভাবে কোনো টেকসই শান্তি অর্জিত হবে না। জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক রেজুলেশনের উপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়ের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে বাকি অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি ইসরায়েল, হামাস এবং হিজবুল্লাহসহ সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানাই। আমি অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অত্যধিক প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তায় নিরবচ্ছিন্ন অ্যাক্সেসের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যে বর্বরতা তা সূত্রপাত তা হয়েছিল গত বছরের এদিন। আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে এ দিন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। সেদিন সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রায় ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে। এর জবাবে হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে তেল আবিব।

তারা এমন প্রতিক্রিয়ার কথা জানায়, যাতে হামাস আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে এবং ইসরায়েল যেন তাদের সব জিম্মিকে মুক্ত করতে পারে। ওই হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় নির্বিচার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে গাজা উপত্যকাকে যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

এ পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অভিযান চালিয়ে হামাসের হাজারো যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি তাদের সুড়ঙ্গের বিশাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছর ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিশরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে উপত্যাকা নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই থেকে আজও চলতে থাকা এ তাণ্ডবে গাজায় ৪১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের এ হামলার বর্ষপূর্তিতে ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ক্যামেরুনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলেমন ইয়াং ।

রোববার (০৬ অক্টোবর) বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া নৃশংসতার এক বছর পূর্তি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্র ্যাচ্য মৃত্যু, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির সাক্ষী হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আবারও বলছি যে মানুষের দুর্ভোগের অবসান হওয়া উচিত এবং এটি এখনই শেষ হওয়া উচিত। আমাদের অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সমস্ত জিম্মির অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই অঞ্চলে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে সংলাপে ফিরে আসা দরকার।

তিনি বলেন, সামরিকভাবে কোনো টেকসই শান্তি অর্জিত হবে না। জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক রেজুলেশনের উপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়ের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে বাকি অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি ইসরায়েল, হামাস এবং হিজবুল্লাহসহ সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানাই। আমি অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অত্যধিক প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তায় নিরবচ্ছিন্ন অ্যাক্সেসের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যে বর্বরতা তা সূত্রপাত তা হয়েছিল গত বছরের এদিন। আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে এ দিন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। সেদিন সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রায় ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে। এর জবাবে হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে তেল আবিব।

তারা এমন প্রতিক্রিয়ার কথা জানায়, যাতে হামাস আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে এবং ইসরায়েল যেন তাদের সব জিম্মিকে মুক্ত করতে পারে। ওই হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় নির্বিচার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে গাজা উপত্যকাকে যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

এ পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অভিযান চালিয়ে হামাসের হাজারো যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি তাদের সুড়ঙ্গের বিশাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছর ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিশরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে

Facebook Comments Box