ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় নানা আয়োজনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত তাড়াশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নাগেশ্বরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী রতন হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে থানার সামনে মানববন্ধন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ, তেহরানের ৭ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনে জামালগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১২

যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট

আব্দুল কুদ্দুস বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯৪২৯ বার পড়া হয়েছে

যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট

‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো বিয়ের সাজ’ সেই চিরচেনা লোকসংগিত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে বাঙ্গালী সমাজে গ্রামবাংলায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হতো। বর যাত্রী আসার আগে কলাগাছ দিয়ে গেট সাজান হতো। আধুনিকতার যাতাকলে পড়ে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কালের আবর্তে হারিয়েগেছে গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী কলাগাছের বিয়ের গেট।

জেনে নিন>>গ্রামগঞ্জে গরুর গাড়ি বিলুপ্তি পথে : মহিষের গাড়ির দেখা মেলে মাঝে মধ্যে 

সরেজমিনে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামঘুরে জানাগেছে স্বাধীনতার পরেও বাঙ্গালী সমাজে ছেলে মেয়ের বিয়ের দিন কলাগাছ বাঁশ ও বিভিন্ন রং এর কাগজ কেটে গেট সাজান হতো। সারাদেশেই বিয়ে বাড়ির ঐতিহ্য কলাগাছের গেট বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডেকোরেটর ব্যবসা চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামীন বিয়ে বাড়ির ঐতিহ্য কলাগাছের গেট এখন আর চোখে পড়ে না। বর্তমানে আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির যুগে সেই কলাগাছের গেট হারিয়ে গেছে।

রাজিব লালমসজিদ এলাকার আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন বাবু জানান তাদের আমলে গরু মহিষের গাড়ী সাজিয়ে বরযাত্রী যেত বিয়ে করতে। আর কনের বাড়িতে কলাগাছ দিয়ে গেট সাজান হতো। সেই গেটে হরেক রকমের শ্লোক ধরা হতো। আলোর জন্য ব্যবহার করা হতো হারিকেন আর হ‍্যাছাক লাইট। হ‍্যাছাকের চারপাশে পাতলা রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি হত রঙিন আরো।

বর যাত্রী আসার পূর্বে বাড়ির সকলের জন্য খিচুরি। বড় যাত্রিদের জন‍্য তৈরি থাকতো মুড়ির নাড়ু, মোয়া, দই চিড়া ও বিভিন্ন রকমের পিঠা। বর ও বরের ভগ্নিপতিদের বোকা বানানোর জন‍্য প্রস্তত থাকতো লবণ মরিচের শরবত। সেই উৎসব, আনন্দ এখন ভাগাভাগি করে নেওয়ার রেওয়াজ নেই বললেই চলে। নেই আনন্দের হৈ-হুল্লোড়।

দেখুন>>পুরোটাই বাঙ্গালীয়ানা

বর্তমান বিয়ের উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগির চেয়ে কৃত্রিমতাই বেশী লক্ষ্য করা যায়। সেই সময়ের বিয়ের দিনের আনন্দই ছিল অন্যরকম। পরিবেশ বান্ধব কলাগাছের গেট এখন আর চোখে পরে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে তা আধুনিক যান্ত্রীক যুগে

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট

‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো বিয়ের সাজ’ সেই চিরচেনা লোকসংগিত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে বাঙ্গালী সমাজে গ্রামবাংলায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হতো। বর যাত্রী আসার আগে কলাগাছ দিয়ে গেট সাজান হতো। আধুনিকতার যাতাকলে পড়ে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কালের আবর্তে হারিয়েগেছে গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী কলাগাছের বিয়ের গেট।

জেনে নিন>>গ্রামগঞ্জে গরুর গাড়ি বিলুপ্তি পথে : মহিষের গাড়ির দেখা মেলে মাঝে মধ্যে 

সরেজমিনে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামঘুরে জানাগেছে স্বাধীনতার পরেও বাঙ্গালী সমাজে ছেলে মেয়ের বিয়ের দিন কলাগাছ বাঁশ ও বিভিন্ন রং এর কাগজ কেটে গেট সাজান হতো। সারাদেশেই বিয়ে বাড়ির ঐতিহ্য কলাগাছের গেট বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডেকোরেটর ব্যবসা চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামীন বিয়ে বাড়ির ঐতিহ্য কলাগাছের গেট এখন আর চোখে পড়ে না। বর্তমানে আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির যুগে সেই কলাগাছের গেট হারিয়ে গেছে।

রাজিব লালমসজিদ এলাকার আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন বাবু জানান তাদের আমলে গরু মহিষের গাড়ী সাজিয়ে বরযাত্রী যেত বিয়ে করতে। আর কনের বাড়িতে কলাগাছ দিয়ে গেট সাজান হতো। সেই গেটে হরেক রকমের শ্লোক ধরা হতো। আলোর জন্য ব্যবহার করা হতো হারিকেন আর হ‍্যাছাক লাইট। হ‍্যাছাকের চারপাশে পাতলা রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি হত রঙিন আরো।

বর যাত্রী আসার পূর্বে বাড়ির সকলের জন্য খিচুরি। বড় যাত্রিদের জন‍্য তৈরি থাকতো মুড়ির নাড়ু, মোয়া, দই চিড়া ও বিভিন্ন রকমের পিঠা। বর ও বরের ভগ্নিপতিদের বোকা বানানোর জন‍্য প্রস্তত থাকতো লবণ মরিচের শরবত। সেই উৎসব, আনন্দ এখন ভাগাভাগি করে নেওয়ার রেওয়াজ নেই বললেই চলে। নেই আনন্দের হৈ-হুল্লোড়।

দেখুন>>পুরোটাই বাঙ্গালীয়ানা

বর্তমান বিয়ের উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগির চেয়ে কৃত্রিমতাই বেশী লক্ষ্য করা যায়। সেই সময়ের বিয়ের দিনের আনন্দই ছিল অন্যরকম। পরিবেশ বান্ধব কলাগাছের গেট এখন আর চোখে পরে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে তা আধুনিক যান্ত্রীক যুগে

Facebook Comments Box