সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনপদ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনপদ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: বাংলাদেশের জয়ে চাপে ভারত, ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণ আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতায় গুরুত্ব দিচ্ছে কাতার চেম্বার যবিপ্রবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়: টাইগারদের ভিডিও কলে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন মৌলভীবাজারের রাজনগরে চা শ্রমিক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু

সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনপদ

সিরাজগঞ্জ থেকে মোঃ লুৎফর রহমান লিটন
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনপদ

সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার প্রতিদিন করছে এ অঞ্চলের জনপদ। এনিয়ে চরম দূর্ভোগে রয়েছে  পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার তেলকুপি ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হয়ে থাকেন তেলকুপি কয়েকটি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষের নদী পারাপারের জন্য আজও কোনো ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, সলঙ্গা থানা থেকে প্রায় ০৫ কিলোমিটার দুরে সলঙ্গা ইউনিয়নের তেলকুপি নামক স্থানে একটি ব্রিজের অভাবে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।

বিশেষ করে নদীর পশ্চিম পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অবস্থিত হওয়ায় স্কুলগামী নদীর পশ্চিম পাড়ের শিক্ষার্থীসহ পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা নারী-পুরুষকে নানা দুর্ভোগ আর দুর্গতির মধ্যদিয়ে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে হচ্ছে।

অপরদিকে নদীর পশ্চিম পাড়ে কবরস্থান স্থাপিত কবরে মৃত্যুদেহ দাফন করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পুর্বপাড়ের বাসিন্দাদের। নানা প্রয়োজনে সকল শ্রেনি-পেশার মানুষের জন্য যাতায়াতের দুর্গতি যেন নিত্যসঙ্গী ।

অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। কিন্তু এখনো তাদের এ দাবি পুরণ হয়নি। ফলে জরুরী অনেক সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে তেলকুপি অঞ্চলের মানুষগুলো।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এ আধুনিকতার যুগে এসেও সরকারের তরফ থেকে আজও অবহেলিত তেলকুপি নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

একমাত্র একটি ব্রিজের অভাবে যুগের পর যুগ ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হয় কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।

বর্ষাকালে নৌকায় নদী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় এখন সারা বছরই এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন বন্যার পানি চারিদিকে থৈ-থৈ করে তখন পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভাড়ায় চালিত নৌকা।

এবং শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হলেও হেঁটেই ওই সকল গ্রামের শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রয়োজনের তাগিদে স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রসহ জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে।

এছাড়াও তেলকুপি ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামে যে ইরি-বোরো ধান উৎপাদন হয় তা যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ কৃষি পণ্যসামগ্রী  বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনেকটা বাধ্য হয়েই ফড়িয়া ও মহাজনদের কাছে কম দামে কৃষি পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি থাকলেও তা নিয়ে যেন কারো তেমন মাথা ব্যথা নেই।

এ ব্যাপারে তেলকুপি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস‍্য মো. শহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মাস্টারসহ অনেক গ্রামবাসি জানান , “আমরা যুগ যুগ ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষার মৌসুমে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতাম কিন্তু বর্ষার সময় নৌকা পারাপারে বেশী ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় সারা বছরই এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হয়ে থাকি।”

তেলকুপি গ্রামটি বিশাল বড় হওয়ায় তেলকুপিতে পার্শ্ববর্তী নদীর উভয় পাড়ের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নদীর উপর দু’টি স্থানে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা হয়েছে। পড়ুন>>হাকালুকি হাওরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি

এরমধ্যে একটি সাঁকো গ্রামের দক্ষিন প্রান্তে উচ্চ বিদ্যালয়,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কবরস্থান সংযুক্ত স্থানে আরেকটি গ্রামের মধ্যস্থল উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।

এদিকে একটি ব্রিজের অভাবে এ এলাকার মানুষ এখন যোগাযোগ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বছরের পর বছর ধরে কৃষি পণ্যের নায্য মূল্যসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ওই এলাকায় অনেকেই  ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,  দেশ স্বাধীনের পর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ এ যাবতকাল যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ততগুলো নির্বাচনের সময় ভোটের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদেরকে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কিন্তু পরে যে দলই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যায় না কেন তখন সেই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান। মনে রাখেন না আর তাদের সেই প্রতিশ্রুতির কথা। প্রত্যাশায় বুক বেঁধে থাকা এলাকার মানুষের এ দাবি এখনো কেউ বাস্তবায়িত করেনি।

এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ তানভীর ইমাম এমপি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এদিকে সলঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। পড়ুন>>রায়গঞ্জে ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে শত শত মানুষ 

এদিকে জনগুরুত্বপুর্ণ এই স্থানে জরুরী ভিত্তিতে যদি একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তাহলে এ এলাকার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “সলঙ্গার তেলকুপি নদীতে ব্রীজের অভাবে ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের জনপদ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!