ঠাকুরগাঁওয়ে সার নিয়ে বিপাকে আলু চাষিরা
- আপডেট সময় : ০৭:১৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও জেলায় আমন ধান ঘরে তোলার সাথে সাথেই শুরু হয় আলু চাষের। দ্রুত গতিতে শুরু হয় আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত ও রোপণের কাজ।
এসময় কর্ম ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। প্রচুর সারের প্রয়োজন পড়ে আলু চাষিদের।প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার সময় মতো ও সঠিক দামে পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
আমনের পর পরই ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকরা আলু চাষ শুরু করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় এবারও ধান কাটা শেষে আলু চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত ও রোপণ শুরু করেছেন। কিন্তু রাসায়নিক সারের দাম ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার না পাওয়ায় কৃষক চিন্তায় পড়েছে । হতাশা দেখা দিয়েছে আলু চাষিদের মাঝে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না। আর খুচরা বাজারে সারের দ্বিগুণ দাম। তার পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
আলু চাষি আইজুল হক বলেন, খুচরা বাজারে এমওপি সারের ৫০ কেজির বস্তা ১৬০০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার, ডিএপি ১২০০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। তার পরেও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছি না। যারা বড় বড় কৃষক তারা সার পাচ্ছে। আর আমার মতো ক্ষুদ্র কৃষকরা সার পাচ্ছি না।
বালিয়াডাঙ্গীর আলু চাষি আউয়াল জানান , আলু চাষ করতে চেয়েছিলাম ৩ একর কিন্তু সারের কারণে এখন ১ একর জমিতে আলু রোপন করছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে ফসল চাষ করবো।
সারের দাম বেশি হলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক জালাল বলেন, এবার সারের এতো সংকট যা কল্পনা করা যায় না। ডিলারের কাছে তো পটাশ সার পাওয়াই যায় না। আর বাইরে দ্বিগুণ দাম। এভাবে শুধু আলু না যে কোন ফসল চাষ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে সব কিছুর দাম উর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে সারের সংকট। তাই আমরা চরম হতাশা ও বিপাকে পরেছি।এতে আমরাই হুমকির মুখে।
কৃষক হাফিজ উদ্দীন বলেন, এবার সার সহ অন্যান্য কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একর প্রতি আলু চাষে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক (সার) জিল্লুর রহমান বলেন, সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। বরাদ্দ পেলে সার সরবরাহ করা হবে। সারের বিষয়ে সরকারের যথেষ্ট অগ্রগতি আছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, গত বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ২৭ হাজার হেক্টর জমি। এবার তার থেকে প্রায় ২ হেক্টর কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৩০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. আব্দুল আজিজ বলছেন, সারের কোন সংকট নেই। কৃষকরা মনে করছেন পরবর্তীতে তারা আর সার পাবেন না। তাই এখন থেকেই সার মজুদ করতে হুমরি খাচ্ছেন তারা। সারের জন্য কোন প্রকার আলু বা অন্য কোন ফসলের ক্ষতি হবে না।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো.সামসুজ্জামান জানান,যারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রয় করছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে ও সারের বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























