সৌদিতে হুতিদের হামলায় চার বাংলাদেশি নিহত, ঝুঁকিতে শ্রমবাজার
- আপডেট সময় : ০৯:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে গিয়েছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ জন বাংলাদেশি কর্মী। অথচ গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০৪ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনা মহামারির পর চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সময়টিকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে মন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯১। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারও চাপে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী যাওয়ার হার ৫৫ শতাংশ কমে গেছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯০৭ জন কর্মী গেলেও, চলতি বছরের একই সময়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ জনে। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর নিয়মিত হামলা এবং তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৯ হাজার ৮৭৪ বাংলাদেশি কর্মী।
সাম্প্রতিক এই নিরাপত্তা সংকট কেবল শ্রমবাজারের গতিকেই স্তিমিত করেনি, বরং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটিয়েছে। গত দুই দিনে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় অন্তত চার বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও আয় নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশ এ অঞ্চলে হয়ে থাকে। ফলে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের কাজ ও আয়ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এই সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। অথচ সরকার পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারের পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। চলতি বছরের একই সময়ে কুয়েতে ১৯ হাজার ৩৮৬ জন বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছেন, যা গত বছরের ২৯ হাজার ৫৬০ জনের তুলনায় কম। কাতারেও কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৬৯ হাজার ৩৪১ থেকে কমে ৪১ হাজার ৫৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরাকের চিত্রও একই, যেখানে গত বছর ৩ হাজার ৯৮ জন কর্মী গেলেও এ বছর গিয়েছেন ২ হাজার ৫৭৫ জন। তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জর্ডানে; সেখানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা গত বছরের ৭ হাজার ৩২২ থেকে বেড়ে এ বছর ৯ হাজার ১৪৬ জনে পৌঁছেছে।
২০২৫ সালটি প্রবাসী কর্মসংস্থানের জন্য বেশ ইতিবাচক ছিল। ওই বছর মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশ পাড়ি দেন, যার মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই কর্মসংস্থান হয় ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনের। মালয়েশিয়া ও ওমানের মতো বড় বাজার বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সে সময় সৌদি আরবের কারণে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ জন কর্মী বিদেশে গেলেও, মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট বিদেশগামীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ের ৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫ জনের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৩১।
বর্তমানে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোও ধীরগতিতে চলছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও এখনো কর্মী পাঠানো শুরু হয়নি। এছাড়া ২০২৩ সাল থেকে ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে, যা সামগ্রিক শ্রম রপ্তানিকে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























