ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪ শেষ ৩০ মিনিটের ঝড়ে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিল ম্যানসিটি ক্যানসারের সাথে লড়াইয়ে ছবিই যখন বেঁচে থাকার ভাষা নাটোর থেকে জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে এমপিদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা ফেনীতে বিজিবির অভিযানে অর্ধকোটি টাকার বেশি মূল্যের মদ ও গরু জব্দ রাণীশংকৈলে শয়নকক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: মায়ের মামলায় অপমৃত্যুর তদন্ত এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে মো. শাহেদ আহম্মদ ও নাসরুল্লাহ বদরপুরি হিসেবে। এ হামলায় আহতদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং বাকি ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন।

নিহত মো. শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে।

আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আইসিইউতে থাকা চারজনসহ সকল আহত যাত্রীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক এবং মো. রফিক মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাফফাত রহমান, মো. দাউদুল ইসলাম, মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ, আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন, মো. আবদুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা, মো. রায়হানুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ, সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার, সালমা আক্তার, মো. আসাদুল ইসলাম, মো. জামাল, নাজমা আক্তার, উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল। এছাড়া আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনজনের নাম হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।

হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে সেখানে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রায় ১০০ যাত্রীর থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কয়েকজন আহত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

দূতাবাসের উদ্যোগে ওমরাহযাত্রী ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই কর্মীকে স্থলসীমান্ত দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন। বর্তমানে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসারত যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪

আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে মো. শাহেদ আহম্মদ ও নাসরুল্লাহ বদরপুরি হিসেবে। এ হামলায় আহতদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং বাকি ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন।

নিহত মো. শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে।

আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আইসিইউতে থাকা চারজনসহ সকল আহত যাত্রীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক এবং মো. রফিক মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাফফাত রহমান, মো. দাউদুল ইসলাম, মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ, আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন, মো. আবদুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা, মো. রায়হানুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ, সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার, সালমা আক্তার, মো. আসাদুল ইসলাম, মো. জামাল, নাজমা আক্তার, উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল। এছাড়া আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনজনের নাম হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।

হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে সেখানে অবস্থানরত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রায় ১০০ যাত্রীর থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কয়েকজন আহত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

দূতাবাসের উদ্যোগে ওমরাহযাত্রী ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই কর্মীকে স্থলসীমান্ত দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন। বর্তমানে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসারত যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box