শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত
- আপডেট সময় : ১০:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। মিডিয়ার কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।
চীন বিষয়ে ট্রাম্পের নীতি এবং তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ফক্স নিউজ সানডে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান পারডিউ।
পারডিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই বলেন, আমরা সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শি’কে সরাসরি জিজ্ঞেসও করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। তবে ট্রাম্প কখন এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিংবা শি কী জবাব দিয়েছিলেন এসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি রাষ্ট্রদূত। তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের রেকর্ডের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পারডিউ এ মন্তব্য করেন।
আইনি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এ বছর দুই নেতা দু’বার বৈঠক করেছেন। মে মাসে বেইজিংয়ে তাদের প্রথম বৈঠক হয় এবং গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে শি রাষ্ট্রীয় সফর করেন। বাস্তবে চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি করতে হলে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়তে হবে। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস চীনের মূল ভূখণ্ডে ইউএস মিউনিশনস লিস্টে থাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
যদিও প্রেসিডেন্ট জাতীয় স্বার্থে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ রাখেন, তবুও এই বিধিনিষেধ কয়েক দশক ধরে বেইজিংয়ের ওপর মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এদিকে, এক চীন নীতি মেনে চললেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাইওয়ানকে পর্যাপ্ত আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হয়। বেইজিং বারবার এই সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উত্তেজনা বিরাজ করে। এরপর গত সপ্তাহে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে যান শি। ট্রাম্প এটিকে খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অস্ত্র সরবরাহ ও তাইওয়ান ইস্যু
- চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটন সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছিল।
- ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে, যা এখন পর্যন্ত ঘোষিত বৃহত্তম।
- প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অস্ত্র প্যাকেজ কয়েক মাস ধরে আটকে থাকলেও দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকের নথিতে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
- রাষ্ট্রদূত পারডিউয়ের দাবি, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অস্ত্র অনুমোদন করেছেন।
- শি’কে ট্রাম্পের করা প্রশ্নটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব হিসেবে না দেখে, বরং প্রেসিডেন্টের চুক্তি ও দর-কষাকষিনির্ভর পদ্ধতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন পারডিউ।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা
বাস্তবসম্মতভাবে ওয়াশিংটন বেইজিংকে এমন কী অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে যা চীন নিজেই তৈরি করে না, তা স্পষ্ট নয়। চীন বর্তমানে প্রচলিত অস্ত্রের প্রায় সব ক্ষেত্রে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ডলারের হিসাবে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির আয় বেশি মনে হলেও প্রকৃত উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে চীন অনেক এগিয়ে। জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২৩০ গুণ বেশি। কংগ্রেসের শুনানি অনুযায়ী, ছোট আকারের ড্রোন উৎপাদনে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১০০ গুণের বেশি সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























