ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝ আকাশে সহকর্মীর হামলা ঠেকিয়ে ১৭৪ প্রাণ বাঁচালেন পাইলট মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শফিকুরের ৪৯তম বিসিএস: শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনের নিয়োগ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি: সারজিস বিশ্বনাথে বিনামূল্যে সাড়ে ৫ শতাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিল ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ঢাকা মহানগরীর ৩ কমিটি বিলুপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের সুপারিশ বাংলাদেশে ১০০ কোটি টাকার টিসিসিএ কারখানা গড়ছে এসআর গ্রুপ বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগ

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শফিকুরের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাতে বসা হকারদের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভিযান পরিচালনাকারীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেইস‌ঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গে‌লে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যেকোনো উন্নয়নমূলক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে আমার সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবহিত না করে এমন হুটহাট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা আমাকে বিস্মিত করেছে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আগে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, মাসের পর মাস একদল অসাধু চক্র হকারদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে আসছে। এই চাঁদাবাজির আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমন বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে টেকসই ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগই সময়ের দাবি। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতে যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ সকল পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে সমাধানের পথও আছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে মানবিক, নিরপেক্ষ ও বাস্তবসম্মত। আমি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, যেকোনো সমাধানের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা, কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শফিকুরের

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাতে বসা হকারদের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভিযান পরিচালনাকারীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেইস‌ঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গে‌লে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যেকোনো উন্নয়নমূলক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে আমার সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবহিত না করে এমন হুটহাট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা আমাকে বিস্মিত করেছে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আগে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, মাসের পর মাস একদল অসাধু চক্র হকারদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে আসছে। এই চাঁদাবাজির আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমন বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে টেকসই ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগই সময়ের দাবি। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতে যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ সকল পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে সমাধানের পথও আছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে মানবিক, নিরপেক্ষ ও বাস্তবসম্মত। আমি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, যেকোনো সমাধানের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা, কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।

Facebook Comments Box