মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে যৌথ নিরাপত্তার আহ্বান কাতারের আমিরের
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে যৌথ নিরাপত্তার আহ্বান কাতারের আমিরের
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থায়ী ও অবাস্তব নীতিই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠলে তার চড়া মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
পড়ুন>>নিউ ইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য শেখ তামিম একটি ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের কাঠামোতে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পারস্পরিক সম্মানের নীতি বজায় থাকা জরুরি। অন্যথায়, সংঘাতের প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে কোনো রাষ্ট্র অনিচ্ছাসত্ত্বেও অন্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস ও অস্থিতিশীলতা আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পড়ুন>>জাকসুর ধারাবাহিকতা রক্ষায় দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির
গাজায় চলমান সামরিক অভিযানকে ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে আমির বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু এড়িয়ে কোনো ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সামরিক হামলা, অবরোধ ও সেনা প্রত্যাহার এবং শর্তহীন মানবিক সহায়তার পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে দখলদারত্ব ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কাতারের আমির। তিনি সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা, ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংসের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পড়ুন>>বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতিকে চিহ্নিত করে তিনি সেগুলোর অবসানের দাবি জানান।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাতারের অবস্থান তুলে ধরে শেখ তামিম জানান, সিরিয়া ও লিবিয়ার পুনর্গঠন ও জাতীয় পুনর্মিলনে তার দেশ সব সময় সমর্থন দিয়ে যাবে।
এছাড়া সুদানে টেকসই শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেও তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। ভাষণের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাতারের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি কোনো স্লোগান নয়, বরং জাতির মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল বিশ্বাস।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























