মতলব উত্তরে মিথ্যা ঘটনায় ব্যবসায়ী পরিবারকে হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৫১ বার পড়া হয়েছে
মতলব (চাঁদপুর) থেকে শেখ খাইরুল ইসলাম :চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুজাতপুর বাজারের ব্যবসায়ী, পশ্চিম ইসলামাবাদ গ্রামের ফয়েজ সরকারের দাবী তাকে ও তার ছেলে মোঃ ফয়সালের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে হুমকি ধামকি দিচ্ছে মজলিশপুর গ্রামের কামাল ভুইয়ার পরিবার।
ব্যবসায়ী ফয়েজ সরকার বলেন, আমার ছেলে ফয়সাল বিবাহিত, সে তার সংসার করছে। এমতাবস্থায় গত দেড় মাস আগে তাকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে কামাল ভুইয়ার স্ত্রী ফয়সালকে সাথে নিয়ে তার মেয়ে মিম আক্তারের সাথে ঢাকা মোহাম্মদপুরের একটি কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকে ফয়সালের কাছে মোটা অংকের টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবী করে। এতে রাজি না হলে ফয়সালকে হুমকি ধামকি দিতে শুরু করে। এবং বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠায়। এক পর্যায়ে মিম আক্তারের মা চাঁদপুর ডিবি অফিসে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। এর আগেও মান্দারতলী গ্রামে বিয়ে দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করেছে। ওই মহিলার কাজই হল মেয়েকে বিয়ে দেয় আর মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে তালাক দেয়া। আমি তাদের এই হয়রানি থেকে বাঁচতে আইনের সহায়তা চেয়ে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
জানা গেছে, এরআগে মান্দারতলী গ্রামের মৃত সহিদউল্লাহর ছেলে তারা মিয়ার সাথে মিম আক্তারের বিয়ে হয়। দেড় বছরের সংসার রেখে মিম আক্তার ওই বাড়ি থেকে না বলে গত ৩ এপ্রিল পিত্রালয় মজলিশপুর গ্রামে চলে আসে। তারা মিয়ার মা সাজু বেগম বলেন, অনেক আশা করে মিম আক্তারকে আমার ছেলের বউ করে আনছিলাম। অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বউ হিসেবে আমার সংসারে রাখতে। কিন্তু দেড় বছরে সে চার বার বিভিন্ন ছেলেদের সাথে পালিয়ে গেছে। না বলে বাড়ি থেকে চলে যেত, তারপর খোঁজাখুজি করে আনতাম। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সকালে হঠাৎ করে মিম উধাও হয়ে যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করে তাকে টরকী গ্রামের বিলের মাঝে পেয়েছি। সাথে দুইটি অপরিচিত ছেলে ছিল, তারা আমাদের দেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় একজনের সহযোগীতায় মিমকে খুঁজে পেয়ে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাই। সেখানে মিমের মা বলে মিমকে দিয়ে সংসার করাবে না। তারপর আমরা চলে আসি। পরে গত ৮ আগস্ট নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে করা একটি তালাক নোটিশ পাঠিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, দুই বছর আগে এক লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। পরে মিম আক্তার পারিবারিক কলোহের জেড় ধরে তারা মিয়ার সংসার করতে ইচ্ছুক নয় বিধায় তালাক দেয়া হইল।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মিম আক্তারের বাড়ি গেলে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা কুলসুমা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, আমার মেয়েকে প্রথম বিবাহ দেওয়ার পর থেকে ফয়সাল তাকে ডিস্টার্ব করতো। এখন তারা দুজনে সম্পর্ক করে বিয়ে করেছে। যদি ফয়সাল তাকে তালাক দিতে চায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তালাক দিবে। ‘ফয়সাল বিবাহিত জেনেও আপনি কেন নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের বিয়ে দিলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দুজন দুজনের সাথে সম্পর্ক করে, তাদের মতামতের ভিত্তিতেই বিয়ে হয়েছে। এ ব্যাপারে মিম আক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলে তার মা ও ভাই রাজি না হওয়ায় কথা বলা যায়নি।
এদিকে চাঁদপুর ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর অনুপ কুমার দে বলেন, মিম আক্তারের কাছ থেকে যৌতুক চাওয়া হয়েছে। যৌতুক না দেওয়ায় তাকে অত্যাচার নির্যাতন করতো। এসব উল্লেখ করে বাদীপক্ষ ডিবি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুইপক্ষকে ২০ সেপ্টেম্বর ডেকেছিলাম। কিন্তু বিবাদীপক্ষ আসে নি।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























