ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান

ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪ ২০০ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে
ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, গত ৮জুন ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুরাতন থানাপাড়া এলাকার জনৈক এমদাদুল হক পাবেলের গুদাম ঘর থেকে ১৬০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পরে পুলিশ মাদক চোরাচালান ও ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে এমদাদুল হক পাবেল ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।

এ ঘটনার পর গত ১১ জুন পাবেলের আত্বীয়স্বজন কুড়িগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে ভূরুঙ্গামারীতে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার চালিয়ে বাসার মালিককে ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় ৬ মাস পূর্বে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বড়খাটামারী গ্রামের মৃত কাশেম আলীর পুত্র মদিনা কসমেটিকসের মালিক শফিকুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী সদরের পুরাতন থানাপারা এলাকার পাবেলের বাসা ভাড়া নিয়ে গুদাম হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম জয়মনিরহাটের বড়খাটামারী গ্রামের মৃত শের আলীর পুত্র সিদ্দিক আলী, শিংঝাড় গ্রামের ইয়ামিন আলীর পুত্র রফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে গাঁজা ও ফেন্সিডিল এনে অভিনব কায়দায় রাইচ কুকারের প্যাকেটে, ডিমের খাচায় যাত্রাপুরে শফিকুলের গ্রামের বাড়িতে রেখে নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করতো। সংবাদ সম্মেলনে এমদাদুল হক পাবেলকে নির্দোষ দাবী করে মামলা প্রত্যাহরের দাবী করা হয়।

এদিকে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ১১ জুন পুলিশ মাদক পাচারের সন্দেহে ২নং আসামী শফিকুল ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে মাদক পাচারের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে সে তা অস্বীকার করে।

এঘটনার পর গত ১২ জুন শফিকুল ইসলামকে নির্দোষ এবং ওসি ও ওসি(তদন্ত) এর অপসারণের দাবীকরে আত্মীয়স্বজনের ব্যানারে কয়েকজন হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে তুলে এনে জয়মনিরহাটে মানববন্ধন করে। মানব বন্ধনে দাবী করা হয় মাদক চোরাচালানের মূল হোতা এমদাদুল হককে আড়াল করতে শফিকুল ইসলামকে আসামী করা হয়েছে। তারা পাবেলের স্ত্রীকেও আসামী করার দাবী জানায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানগেছে,পাবেল ও শফিকুলের ইসলামে নেতৃত্বে একটি চক্র যৌথভাবে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতো। কোন কারণে বনাবনি না হওয়ায় মাদকের চালান ধরিয়ে দেয়া হয়।

আর এই চক্রটিকে বাঁচাতে এবং মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে এদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।

এ ব্যাপারে ওসি রুহুল আমিন জানান, মাদক আটকের পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমদাদুল হক পাবেলকে আটকের জোর চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করতে পারলেই পুরো গ্যাংটির মুখোশ উন্মোচন হবে।

তিনি জানান, একটি চক্র মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে এবং প্রকৃত আসামীদের আড়াল করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে
ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ফেন্সিডিল ও গাঁজা আটকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আসামীদের বিভিন্ন পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, গত ৮জুন ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুরাতন থানাপাড়া এলাকার জনৈক এমদাদুল হক পাবেলের গুদাম ঘর থেকে ১৬০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পরে পুলিশ মাদক চোরাচালান ও ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে এমদাদুল হক পাবেল ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।

এ ঘটনার পর গত ১১ জুন পাবেলের আত্বীয়স্বজন কুড়িগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে ভূরুঙ্গামারীতে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার চালিয়ে বাসার মালিককে ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় ৬ মাস পূর্বে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বড়খাটামারী গ্রামের মৃত কাশেম আলীর পুত্র মদিনা কসমেটিকসের মালিক শফিকুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী সদরের পুরাতন থানাপারা এলাকার পাবেলের বাসা ভাড়া নিয়ে গুদাম হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম জয়মনিরহাটের বড়খাটামারী গ্রামের মৃত শের আলীর পুত্র সিদ্দিক আলী, শিংঝাড় গ্রামের ইয়ামিন আলীর পুত্র রফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে গাঁজা ও ফেন্সিডিল এনে অভিনব কায়দায় রাইচ কুকারের প্যাকেটে, ডিমের খাচায় যাত্রাপুরে শফিকুলের গ্রামের বাড়িতে রেখে নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করতো। সংবাদ সম্মেলনে এমদাদুল হক পাবেলকে নির্দোষ দাবী করে মামলা প্রত্যাহরের দাবী করা হয়।

এদিকে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ১১ জুন পুলিশ মাদক পাচারের সন্দেহে ২নং আসামী শফিকুল ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে মাদক পাচারের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে সে তা অস্বীকার করে।

এঘটনার পর গত ১২ জুন শফিকুল ইসলামকে নির্দোষ এবং ওসি ও ওসি(তদন্ত) এর অপসারণের দাবীকরে আত্মীয়স্বজনের ব্যানারে কয়েকজন হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্রকে তুলে এনে জয়মনিরহাটে মানববন্ধন করে। মানব বন্ধনে দাবী করা হয় মাদক চোরাচালানের মূল হোতা এমদাদুল হককে আড়াল করতে শফিকুল ইসলামকে আসামী করা হয়েছে। তারা পাবেলের স্ত্রীকেও আসামী করার দাবী জানায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানগেছে,পাবেল ও শফিকুলের ইসলামে নেতৃত্বে একটি চক্র যৌথভাবে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতো। কোন কারণে বনাবনি না হওয়ায় মাদকের চালান ধরিয়ে দেয়া হয়।

আর এই চক্রটিকে বাঁচাতে এবং মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে এদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।

এ ব্যাপারে ওসি রুহুল আমিন জানান, মাদক আটকের পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমদাদুল হক পাবেলকে আটকের জোর চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করতে পারলেই পুরো গ্যাংটির মুখোশ উন্মোচন হবে।

তিনি জানান, একটি চক্র মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে এবং প্রকৃত আসামীদের আড়াল করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

Facebook Comments Box