বাঁধ ভাঙনে বোরো ফসল পানির নিচে: ডিসির প্রত্যাহার দাবি কৃষকদের
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১৯৪০ বার পড়া হয়েছে
বাঁধ ভাঙনে বোরো ফসল পানির নিচে: ডিসির প্রত্যাহার দাবি কৃষকদের
ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে কৃষক-জনতার গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনার চত্বরে জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী।
পড়ুন>> নওগাঁয় সাত কিলোমিটার খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সুলতানা বেগম, মতিউর রহমান, মির্জা ফারুক, শাহাব উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, রমজান আলী, মোশাহিদ আলী, নুরুল আমিন, আব্দুল কাদির, জাবেদুল্লাহসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা প্রফেসর মহিবুল ইসলাম, কমরেড চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন মনির, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম কর্মী জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবক নুরুল হকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কৃষকের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। তারা বলেন, পিআইসি বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলে সময়মতো ও সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ হয়নি।
সমাবেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, কৃষি ও এনজিও ঋণ মওকুফ, অপরিকল্পিত বাঁধ অপসারণ, অবৈধ পিআইসি পুনঃতদন্ত, বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
পড়ুন>> রাণীশংকৈলের পিআইওকে মারধর মামলার প্রধান আসামি মামুন গ্রেপ্তার
এদিকে গণসমাবেশ চলাকালে জেলার অন্যতম দেখার হাওরে পূর্বে নির্মিত একটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে প্রবেশ করে। এতে ওই হাওরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায় বলে কৃষকেরা জানান।
ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা জেলা প্রশাসক ড. ইলিয়াস মিয়াকে দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে তাকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

























