ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাচ্ছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেশাদার ঢাকি না পেয়ে নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন রংপুরের পূজামণ্ডপে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ২১ ক্যাটাগরির নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি সুনামগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, আটক ১ বাকুতে সিকা শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমিরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৮ সদস্যের দল ঘোষণা বাংলাদেশের দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইসরাক মহাষ্টমীর উৎসবে মুখর রাজধানী, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তের ভিড় ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের সামনে এখন জটিল সমীকরণ

পেশাদার ঢাকি না পেয়ে নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন রংপুরের পূজামণ্ডপে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবহেলিত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • সৌদি আরবের বন্দি তালিকায় দুইজন বাংলাদেশি থাকলেও তাতে মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না।
  • সংবিধান সংশোধনী ইস্যুতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • ড্যাপ সংশোধন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
  • ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
  • রংপুরের গ্রামাঞ্চলে পেশাদার ঢাকির সংকটে পূজা কমিটির সদস্যরা নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন।

রংপুর বিভাগে দুর্গাপূজার ব্যাপক আয়োজনে এবার ঢাকির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের আট জেলায় এ বছর ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। অথচ ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার। প্রতিবছর মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও পেশাদার ঢাকির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যার ফলে অনেক মণ্ডপে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সময়মতো সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, প্রতিবছর বাড়ছে পূজামণ্ডপের সংখ্যা।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়িহাট কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরে গত কয়েক বছর ধরে চুক্তিতে ঢাকি নিয়ে আসা হলেও এবার কাউকেই পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত মন্দির কমিটি ৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি নতুন ঢাক তৈরি করিয়ে নিয়েছে।

এখন কমিটির সদস্যরা নিজেরাই পালা করে সেই ঢাক বাজাচ্ছেন। পূজায় ঢাক বাজানো জরুরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে কমিটির সদস্যরাই সেই দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিটির সদস্য নির্মল চন্দ্র রায় জানান, একজন পেশাদার ঢাকিকে দুর্গাপূজার সময় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়, যা অনেক ছোট মণ্ডপের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, ৬ হাজার টাকায় তৈরি এই ঢাক দিয়ে কয়েক বছর চালানো গেলেও পেশাদারদের মতো তাল ও ছন্দ বজায় রাখা বেশ কষ্টের।

অনেক সময় আরতির সময় ঢাকের আওয়াজ ঠিকমতো শোনা যায় না, যা পূজার সামগ্রিক আমেজ কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মন্দিরে সময়মতো ঢাকের শব্দ শোনা যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গারডাবরী এবং রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামের মণ্ডপগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিঙ্গারডাবরীর মণ্ডপ কমিটি ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাক তৈরি করে নিজেরাই বাজাচ্ছেন। সেখানে গত বছর একজন ঢাকি ১৩ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হলেও এবার তাকে পাওয়া যায়নি। মিলনপুর গ্রামের রনজিত চন্দ্র রায় জানান, পেশাদার ঢাকি না থাকায় অর্থের কিছু সাশ্রয় হলেও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় ছন্দপতন ঘটছে, যা তাদের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লালমনিরহাট শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঢাকি বাবুল চন্দ্র দাসের মতে, গ্রামে এখন আর নির্ধারিত ঢাকি নেই বললেই চলে। সারা বছর কাজের অভাব থাকায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসছে না। বড় শহরে দুর্গাপূজায় ঢাকিরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মজুরি পেলেও গ্রামে পান মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই আয়ের অসামঞ্জস্যতা এবং কাজের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ঢাকি পেশা বদলে ফেলেছেন। একই মত প্রকাশ করেছেন রংপুর নগরীর ঢাকি সুখেন দাসের। তারা উভয়েই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই পেশাটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, ‘দুর্গাপূজা এলে ঢাকিদের চাহিদা বাড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সৌদির দেওয়া বন্দি তালিকায় ২ বাংলাদেশির নাম ছিল, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না।
  • ড্যাপ সংশোধন: ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ।
Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পেশাদার ঢাকি না পেয়ে নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন রংপুরের পূজামণ্ডপে

আপডেট সময় : ০১:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অবহেলিত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • সৌদি আরবের বন্দি তালিকায় দুইজন বাংলাদেশি থাকলেও তাতে মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না।
  • সংবিধান সংশোধনী ইস্যুতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • ড্যাপ সংশোধন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
  • ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
  • রংপুরের গ্রামাঞ্চলে পেশাদার ঢাকির সংকটে পূজা কমিটির সদস্যরা নিজেরাই ঢাক বাজাচ্ছেন।

রংপুর বিভাগে দুর্গাপূজার ব্যাপক আয়োজনে এবার ঢাকির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের আট জেলায় এ বছর ৫ হাজার ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। অথচ ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার। প্রতিবছর মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও পেশাদার ঢাকির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যার ফলে অনেক মণ্ডপে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সময়মতো সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, প্রতিবছর বাড়ছে পূজামণ্ডপের সংখ্যা।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়িহাট কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরে গত কয়েক বছর ধরে চুক্তিতে ঢাকি নিয়ে আসা হলেও এবার কাউকেই পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত মন্দির কমিটি ৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি নতুন ঢাক তৈরি করিয়ে নিয়েছে।

এখন কমিটির সদস্যরা নিজেরাই পালা করে সেই ঢাক বাজাচ্ছেন। পূজায় ঢাক বাজানো জরুরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে কমিটির সদস্যরাই সেই দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিটির সদস্য নির্মল চন্দ্র রায় জানান, একজন পেশাদার ঢাকিকে দুর্গাপূজার সময় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়, যা অনেক ছোট মণ্ডপের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, ৬ হাজার টাকায় তৈরি এই ঢাক দিয়ে কয়েক বছর চালানো গেলেও পেশাদারদের মতো তাল ও ছন্দ বজায় রাখা বেশ কষ্টের।

অনেক সময় আরতির সময় ঢাকের আওয়াজ ঠিকমতো শোনা যায় না, যা পূজার সামগ্রিক আমেজ কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মন্দিরে সময়মতো ঢাকের শব্দ শোনা যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গারডাবরী এবং রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামের মণ্ডপগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিঙ্গারডাবরীর মণ্ডপ কমিটি ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাক তৈরি করে নিজেরাই বাজাচ্ছেন। সেখানে গত বছর একজন ঢাকি ১৩ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হলেও এবার তাকে পাওয়া যায়নি। মিলনপুর গ্রামের রনজিত চন্দ্র রায় জানান, পেশাদার ঢাকি না থাকায় অর্থের কিছু সাশ্রয় হলেও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় ছন্দপতন ঘটছে, যা তাদের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লালমনিরহাট শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঢাকি বাবুল চন্দ্র দাসের মতে, গ্রামে এখন আর নির্ধারিত ঢাকি নেই বললেই চলে। সারা বছর কাজের অভাব থাকায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসছে না। বড় শহরে দুর্গাপূজায় ঢাকিরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মজুরি পেলেও গ্রামে পান মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই আয়ের অসামঞ্জস্যতা এবং কাজের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ঢাকি পেশা বদলে ফেলেছেন। একই মত প্রকাশ করেছেন রংপুর নগরীর ঢাকি সুখেন দাসের। তারা উভয়েই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই পেশাটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, ‘দুর্গাপূজা এলে ঢাকিদের চাহিদা বাড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সৌদির দেওয়া বন্দি তালিকায় ২ বাংলাদেশির নাম ছিল, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না।
  • ড্যাপ সংশোধন: ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ।
Facebook Comments Box