ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত তারুণ্যের দীপ্ত পদচারণায় কুড়িগ্রামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ক্রাইস্টচার্চে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ভারত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের সাড়ে ৩৪ হাজার পদে নিয়োগ দ্রুত ভোলায় বসতভিটার কর আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক ও জাপানের সানায়ে তাকাইচি

পাট কাটেতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবীর
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ২৪৮৭৭ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

পাট কাটেতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু

 

 

 

​একটি সাজানো-গোছানো সংসার, বুকভরা আশা আর সোনালী স্বপ্নের হাতছানি—সবকিছু মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে গেল আকাশের বুকে হানা দেওয়া এক চিলতে আগুনের ঝলকানিতে।

 

 

 

যে জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফলানো হয়েছিল সোনালী আঁশ, সেই ফসলের মাঠই শেষ পর্যন্ত বাবা-ছেলের শেষ ঠিকানায় পরিণত হবে, তা কে জানত!

 

 

গত ​বুধবার ১৫ জুলাই দুপুরের তপ্ত রোদের পর যখন মেঘের আনাগোনা শুরু হয়েছিল, তখনো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আকাশটা হয়তো এমন এক নির্মম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হতে চায়নি। মাঠে তখন পরম যত্নে পাট কাটছিলেন ৫৫ বছর বয়সী বাবা আনোয়ার প্রভু (নারায়ণ) এবং তার ২৩ বছরের তরুণ ছেলে নিমাই। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই প্রতিবেশী।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

 

​     হঠাৎ করেই প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করল। ঝুম বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ চিরে নেমে এল এক বজ্রাঘাত। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের দুটি মূল খুঁটি।​ঘটনাস্থলেই ঝরে যায় ছেলে নিমাইয়ের তাজা প্রাণ। যে সন্তানকে পরম স্নেহে বড় করেছিলেন বাবা, চোখের সামনে তার এমন নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বাবার বুকে তখন কীরূপ হাহাকার উঠেছিল, তা ভাবলেও শিউরে উঠতে হয়। তবে সেই শোক সইবার সময়টুকুও পাননি নিয়তি-তাড়িত বাবা আনোয়ার প্রভু। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে। ওপারে হয়তো একা যেতে দেওয়া যাবে না প্রাণপ্রিয় সন্তানকে—তাই তো পরম মায়ায় ছেলের হাতটি ধরে বাবাও বিদায় নিলেন এই ধরণী থেকে।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে অনলাইন জুয়ার অর্থপাচারকারী ও এজেন্ট গ্রেপ্তার

​      এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে এখন নেমে এসেছে এক গভীর ও স্তব্ধ নীরবতা। স্তব্ধ হয়ে গেছে বাতাস, থমকে গেছে চেনা কোলাহল। প্রতিবেশীদের চোখে অশ্রুর বন্যা, আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস। একটি বজ্রপাত কেবল দুটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, চিরতরে নিভিয়ে দিল একটি পরিবারের আশার প্রদীপ।

 

​       বজ্রপাতের এই নির্মম আঘাত আরও একবার আমাদের মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতির এই রুদ্র রোষের সামনে আমরা কতটা অসহায়! শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা। ওপারে বাবা-ছেলে ভালো থাকুন পরম শান্তিতে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাট কাটেতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

 

 

পাট কাটেতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু

 

 

 

​একটি সাজানো-গোছানো সংসার, বুকভরা আশা আর সোনালী স্বপ্নের হাতছানি—সবকিছু মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে গেল আকাশের বুকে হানা দেওয়া এক চিলতে আগুনের ঝলকানিতে।

 

 

 

যে জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফলানো হয়েছিল সোনালী আঁশ, সেই ফসলের মাঠই শেষ পর্যন্ত বাবা-ছেলের শেষ ঠিকানায় পরিণত হবে, তা কে জানত!

 

 

গত ​বুধবার ১৫ জুলাই দুপুরের তপ্ত রোদের পর যখন মেঘের আনাগোনা শুরু হয়েছিল, তখনো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আকাশটা হয়তো এমন এক নির্মম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হতে চায়নি। মাঠে তখন পরম যত্নে পাট কাটছিলেন ৫৫ বছর বয়সী বাবা আনোয়ার প্রভু (নারায়ণ) এবং তার ২৩ বছরের তরুণ ছেলে নিমাই। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই প্রতিবেশী।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

 

​     হঠাৎ করেই প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করল। ঝুম বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ চিরে নেমে এল এক বজ্রাঘাত। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের দুটি মূল খুঁটি।​ঘটনাস্থলেই ঝরে যায় ছেলে নিমাইয়ের তাজা প্রাণ। যে সন্তানকে পরম স্নেহে বড় করেছিলেন বাবা, চোখের সামনে তার এমন নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বাবার বুকে তখন কীরূপ হাহাকার উঠেছিল, তা ভাবলেও শিউরে উঠতে হয়। তবে সেই শোক সইবার সময়টুকুও পাননি নিয়তি-তাড়িত বাবা আনোয়ার প্রভু। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে। ওপারে হয়তো একা যেতে দেওয়া যাবে না প্রাণপ্রিয় সন্তানকে—তাই তো পরম মায়ায় ছেলের হাতটি ধরে বাবাও বিদায় নিলেন এই ধরণী থেকে।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে অনলাইন জুয়ার অর্থপাচারকারী ও এজেন্ট গ্রেপ্তার

​      এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে এখন নেমে এসেছে এক গভীর ও স্তব্ধ নীরবতা। স্তব্ধ হয়ে গেছে বাতাস, থমকে গেছে চেনা কোলাহল। প্রতিবেশীদের চোখে অশ্রুর বন্যা, আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস। একটি বজ্রপাত কেবল দুটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, চিরতরে নিভিয়ে দিল একটি পরিবারের আশার প্রদীপ।

 

​       বজ্রপাতের এই নির্মম আঘাত আরও একবার আমাদের মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতির এই রুদ্র রোষের সামনে আমরা কতটা অসহায়! শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা। ওপারে বাবা-ছেলে ভালো থাকুন পরম শান্তিতে।

 

 

Facebook Comments Box