পরিত্যক্ত প্লাস্টিকেই হাসি ফিরল মুখে: কুড়িগ্রামে ১৪ টি ভোজ্যপণ্য মিলছে প্লাস্টিকের বদলে
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
পরিত্যক্ত প্লাস্টিকেই হাসি ফিরল মুখে: কুড়িগ্রামে ১৪ টি ভোজ্যপণ্য মিলছে প্লাস্টিকের বদলে
পরিত্যক্ত প্লাস্টিকেই হাসি ফিরল মুখে; কুড়িগ্রামে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বদলে মিলছে চাল-ডাল, ডিম-তেলসহ ১৪ পণ্য।
প্লাস্টিক যেখানে ছিল বোঝা, আজ সেখানেই আশার আলো। কুড়িগ্রামের মানুষ প্রমাণ করলো, একটু ভাবলেই বদলে দেওয়া যায় ভবিষ্যৎ।
গৃহস্থালির এক কোণে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক, ভাঙা বোতল বা প্যাকেটগুলো এখন আর শুধুই ময়লা নয়।
কুড়িগ্রামের মানুষ এখন সেগুলোকেই রূপান্তর করছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, ডিম ও আটায়। আর এই অসাধারণ বদলের পেছনে রয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ “প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম”।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম পৌরসভার চর হরিকেশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত হয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী “প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর”, যেখানে প্লাস্টিকের ওজন অনুযায়ী পণ্য তুলে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের হাতে। ভাঙা বালতি, পুরনো বোতল, বাজারের পলিথিন—সবই এখানে মূল্যবান।
এক হাতে প্লাস্টিক, অন্য হাতে বাজারের ব্যাগ!
প্রচলিত বাজারের ব্যাগে ভরে কেউ আনছেন ২-৩ কেজি প্লাস্টিক, আবার কেউ বা ঠেলাগাড়িতে। সেই প্লাস্টিক জমা দিলেই হাতে ধরা পড়ছে চাল, ডিম, তেল, চিনি, লবণসহ ১৪ ধরনের নিত্যপণ্য।
প্লাস্টিকের বোতলে ভরা বস্তা কাঁধে নিয়ে আসা মোছাঃ জরিনা বেগম জানালেন, “ঘরের ভেতরে বাইরে পড়ে থাকা প্লাস্টিকগুলো এনে দিয়ে তিন কেজি চাল পেয়েছি। আমার মতো অনেকেই ডিম, তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।”
পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে আবারো সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম রেজা জানান, “তিন কেজি প্লাস্টিক দিলে দুই কেজি আটা, এক কেজি প্লাস্টিকে ৬টি ডিম, এমন হারে আমরা ১৪ ধরনের পণ্য দিচ্ছি। পুরাতন প্লাস্টিককে আমরা এক ধরনের বিনিময় মুদ্রা হিসেবে নিচ্ছি। এতে যেমন মানুষ উপকার পাচ্ছে, তেমনি পরিবেশও হচ্ছে দূষণমুক্ত।”
এই কর্মসূচি শুধু একটি সহায়তা নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় গণসচেতনতা তৈরির একটি অনন্য উদ্যোগ। প্লাস্টিক যেখানে প্রতিনিয়ত দূষণের কারণ, সেখানে তা রূপ নিচ্ছে সম্পদে। এখন, শুধু সাহায্য নয়, সচেতনতা গড়ার অভিযান।
পৌর শহরের বাসিন্দা মোঃ ওসমান আলী বলেন,
“বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সব সময় কুড়িগ্রামের মানুষের পাশে আছে। এবার তারা এমন এক কাজ শুরু করেছে যা পরিবেশ, সমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য দারুণ ইতিবাচক।”
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা এ প্রসঙ্গে বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো অনেক বড় প্রভাব রাখে। আমরা চাই সবাই মিলে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুক। এই দেশ আমার-আপনার সবার।”


























