নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৩৬৯০৭ বার পড়া হয়েছে
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম নন্দিনী রানী (৭)। সে ওই এলাকার কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার ভোরে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতে কিছু গাছ ভাঙা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা খেতের ভেতরে একটি সদ্য খোঁড়া গর্ত দেখতে পান। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো দুর্বৃত্ত শিশুটিকে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পড়ুন>>হাসপাতালের টয়লেটে যুবক-নারী আটক: নারীকে নিয়ে রাত কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব ওয়ার্ডবয়ের
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসী। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শিশুর বাবা নলনী বর্মণ বলেন, “আমার মেয়েটা খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। দুপুরেও আমার সঙ্গে খেয়েছে। যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” শোকাহত মা সাবিত্রী রানীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো ফলিমারী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
















